‘মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে জনপ্রতিনিধিদের অপমান করে নিজের ঔদ্ধত্য প্রকাশ করেন’, মহুয়ার পাশে দাঁড়িয়ে মমতাকে আক্রমণ শুভেন্দুর

12
'মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে জনপ্রতিনিধিদের অপমান করে নিজের ঔদ্ধত্য প্রকাশ করেন', মহুয়ার পাশে দাঁড়িয়ে মমতাকে আক্রমণ শুভেন্দুর

মহানগর ডেস্ক: বৃহস্পতিবার নদিয়ায় প্রশাসনিক বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সাংসদ মহুয়া মৈত্র। বৈঠকে কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি জয়ন্ত সাহার সঙ্গে কথা বলার সময় এলাকায় দলীয় কোন্দলের বিষয়ে প্রশ্ন করেন মুখ্যমন্ত্রী এবং তিনি আরও বলেন,’আমি পুলিশকে দিয়ে তদন্ত করিয়েছি। আমি জানি সাজিয়ে ঘটনা ঘটানো হয়েছে। সবাইকে মিলে মিশে কাজ করতে হবে।’

আর তারপরেই সেখানকার সাংসদকে চাঁচাছোলা ভাষায় মমতা বলেন,’ মহুয়া তোমাকে স্পষ্টভাবে বলছি, কে কার পক্ষে, কে কার বিপক্ষে জানার দরকার নেই। ইচ্ছে হলেই সাজিয়ে গুছিয়ে কিছু লোক পাঠালাম, তা ডিজিটাল ও পেপারে পাঠালাম, ইউটিউবে পাঠিয়ে দিলাম। এই রাজনীতি একদিন চলতে পারে, চিরদিন নয়। একই লোক চিরদিন থাকবে সেটাও মেনে নেওয়া যায় না। নির্বাচন যখন হবে কে প্রার্থী হবেন, তা দল ঠিক করবে। কিন্তু সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। মতানৈক্য একেবারেই ঠিক নয়।’

এই ঘটনার পরে মহুয়া মৈত্রর পাশে দাঁড়িয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে তোপ দেগে তিনি বলেন,’এই মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে আধিকারিক, জনপ্রতিনিধিদের অপমান করে নিজের ঔদ্ধত্য প্রকাশ করেন। আমার তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ার পিছনে এটাও একটা অন্যতম কারণ ছিল। মানুষের আত্মসম্মান রয়েছে। লাইভ হচ্ছে, তাঁর পিতা-মাতা দেখছেন। মুখ্যমন্ত্রীর কোনও বোধবুদ্ধি নেই।’

সম্প্রতি সরকারি প্রকল্পে ঘর দেওয়াকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের অন্দরে দেখা গিয়েছিল গোষ্ঠীকোন্দল। সেই অশান্তির ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছিল। এমনকি মহুয়া মৈত্রর সঙ্গে মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস, জেলা সভাপতি জয়ন্ত সাহা, ঘাসফুল শিবিরের নেতা নরেশ সাহার মনোমালিন্যের অভিযোগও উঠেছিল। এই সমস্ত ঘটনার প্রভাব আসন্ন পুরভোটে যাতে না পড়ে, এইজন্যই মুখ্যমন্ত্রী আগাম সতর্ক বার্তা দিয়ে দিলেন এদিন।