রাজধানীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, মৃত অন্তত ২৭

37

মহানগর ডেস্ক: শুক্রবার দিল্লির মুন্ডকা স্টেশনের কাছে একটি বহুতলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে পুরে ছারখার গোটা বিল্ডিং। মৃত্যু হয়েছে অন্ততপক্ষে ২৭ জনের। হাসপাতলে ভর্তি ৪০ জনের কাছাকাছি মানুষ। আগুন নেভাতে এদিন ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের ২৫টি ইঞ্জিন। মধ্যরাতে পাওয়া খবর অনুযায়ী, পশ্চিম দিল্লির ওই বাণিজ্যিক ভবন থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৬০-৭০ জনকে। গোটা বাড়ি জুড়ে তল্লাশি চালিয়েছে দমকলকর্মীরা।

জানা গিয়েছে, গতকাল বিকেল পৌনে পাঁচটা নাগাদ মেট্রো স্টেশনের কাছে ওই বাড়িতে আগুন লাগে। মূলত ওই বিল্ডিংয়ে বিভিন্ন সংস্থার অফিস রয়েছে। এদিন দ্রুত আগুন ছড়িয়ে যায় গোটা বাড়িতে। প্রথমে দোতলায় অবস্থিত সিসিটিভি ক্যামেরা ও রাউটার নির্মাতা একটি সংস্থার অফিস থেকেই আগুন লাগে। ভিতরে যারা ছিলেন, কিছু লোক সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে আসেন। আবার কেউ কেউ বাঁচতে দড়ি ধরে দেওয়াল বেয়ে নামতে থাকেন। এদিনের এই দৃশ্য সকলকে মনে করিয়ে দিয়েছে কলকাতার পার্ক স্ট্রিটের স্টিফেন কোর্টের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা।

রাতে দিল্লির দমকল কর্তা সুনীল চৌধুরী জানিয়েছেন, ‘আগুন আয়ত্তে আনা গিয়েছে। এলাকাটি এতই বড় যে, উদ্ধারকাজ শেষ হতে সময় লাগবে’। শেষ রাতে পাওয়া খবর অনুযায়ী, তখনও একটি তলায় তল্লাশি বাকি। আশঙ্কা করা হচ্ছে বাড়তে পারে মৃতের সংখ্যা। এদিনের এই ঘটনায় দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল জানিয়েছেন, যোগাযোগ রাখছেন অফিসারদের সঙ্গে। বিল্ডিংয়ের দোতালায় থাকা সিসিটিভি নির্মাতা সংস্থার পঞ্চাশের বেশি কর্মীকে উদ্ধার করা হয়েছে।

সংস্থার মালিক হরিশ গোয়েল এবং বরুণ গোয়েলকে আটক করেছে পুলিশ। অভিযোগ দায়ের হয়েছে বাড়ির মালিক মণীশ লাকড়ার বিরুদ্ধেও। রাজধানীর এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় টুইট করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। লেখেন, “দিল্লির অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় অত্যন্ত দুঃখিত আমি। শোকাহত পরিবারগুলিকে সমবেদনা জানাই। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি”। একইভাবে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী শোক প্রকাশ করেছেন টুইটারে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্বজনহারাদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।