সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধা আজও বামফ্রন্টের সৈনিক, নির্বাচনের আগে লাল ঝান্ডা কাঁধে নিয়ে পৌঁছলেন সভায়

46

নিজস্ব প্রতিনিধি, নদিয়া: কেউ ডাকে কাজল দি কেউ বা পিসি। নদিয়া শান্তিপুর গোবিন্দপুর এলাকার এই মহিলাকে শুধু শান্তিপুর বা জেলা নেতৃত্ব নয় রাজ্যের তৎকালীন প্রায় সব নেতৃত্বের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত। কারণ সত্তরের দশকে যখন তিনি যুবতী তখন থেকেই বামপন্থী যুব এবং মহিলা সংগঠনের মাধ্যমে অত্যাচারিত নিপীড়িত মহিলাদের পাশে দাঁড়ানোর অভ্যাস ছিল তাঁর। তবে কারোর উপর ভরসা নয়, নিজে পায়ে হেঁটেই পৌঁছাতেন গ্রাম থেকে শহর জেলা থেকে রাজ্য সর্বত্র। সে সময় এখনকার মতন যোগাযোগ মোবাইল নাম্বার ছিল না, তাই তৎকালীন সময়ে দাপুটে রাজ্য নেতৃত্বও স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা করার দায়িত্ব ভার দিতেন কাজল বিশ্বাসের উপর।

এখনও অবশ্য তার যোগাযোগ নম্বর বা স্থায়ী ঠিকানা বলতে কিছু নেই। সারা জীবন লাল ঝান্ডা নিয়ে দলের বার্তা পৌঁছে গিয়ে বিয়ের কথা ভাবার ফুরসত মেলেনি। প্রবীণ বামপন্থী নেতৃত্ব জানান একবার মহিলাদের নিয়ে শান্তিপুর থেকে শুরু কলকাতা ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছান পায়ে হেঁটেই। গতকাল শান্তিপুর পৌরসভা নির্বাচন উপলক্ষে শান্তিপুর নতুনহাট অঞ্চলে আয়োজিত প্রার্থীদের সমর্থনে একটি সভাতে সকলের আগে উপস্থিত তিনি। যথারীতি রাজ্য নেতৃত্ব সুজন চক্রবর্তী প্রথমে নেমেই দেখা করলেন কাজল দির সাথে। খোঁজখবর নিলেন শরীরের, জানালেন তাঁদের মতন বহু মানুষকে সমৃদ্ধ করেছে দলকে।

অন্যদিকে বৃদ্ধা জানালেন আগের মতন ঘুরতে পারি না তবে নির্বাচন আসলে বাড়িতে মন বসে না। ৭১ বছর বয়স হয়ে গেলেও লাল ঝান্ডা নিয়ে এখনও দাপুটে মনে এগিয়ে চলতে পারেন কাজল দি। পরিবারের সদস্য ছিল অনেকেই। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সকলেই পরলোকগমন করেছে। কিন্তু তিনি নিজেকে শক্ত রেখে এখনও পর্যন্ত রাজনীতিতে মনোযোগ দিয়েছেন।