India vs New Zealand: রুদ্ধশ্বাস লড়াই নিউজিল্যান্ডের, তীরে এসে তীর ডুবল ভারতের, ড্রতেই সন্তুষ্ট থাকতে হল রাহানে ব্রিগেডকে

11
শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হল না জাদেজা-অক্ষরদের এই উচ্ছ্বাস।

মহানগর ডেস্ক: জয়ের আশা জাগিয়েও শেষ রক্ষা হল না। তীরে এসে তরী ডুবল টিম ইন্ডিয়ার। জয়ের থেকে মাত্র এক ধাপ দূরে থমকে যেতে হল অজিঙ্কা রাহানে অ্যান্ড কোংকে। নিউজিল্যান্ডের দাঁতে দাঁত চিপে লড়াইয়ের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হলেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন-রবীন্দ্র জাদেজারা। শেষ পর্যন্ত প্রথম টেস্টে ড্রতেই সন্তুষ্ট থাকতে হল ভারতকে।

কিউইদের ২৮৪ রানের লক্ষ্য মাত্রা ছুড়ে দিয়ে ইনিংস ডিক্লেয়ার করে দিয়েছিলেন রাহানে। চতুর্থ দিন মাত্র চার ওভার হাত ঘোরানোর সুযোগ দিয়েছিলেন অশ্বিনদের। হতাশ করেননি এই ডানহাতি স্পিনার। মাত্র দুই রানে উইল ইয়ংকে ফিরিয়ে দিয়ে নিউজিল্যান্ডকে প্রবল চাপে ফেলে দিয়েছিলেন অশ্বিন। কিন্তু পঞ্চম তথা শেষ দিনে নাইট ওয়াচম্যান উইলিয়াম সামারভিলেকে সঙ্গে নিয়ে প্রথম সেশনে যে ভাবে লড়াই চালালেন টম ল্যাথাম, তাতেই কার্যত ম্যাচ বেড়িয়ে যায় ভারতের হাত থেকে।

এরপর অবশ্য ঘুরে দাঁড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছিল মেন ইন ব্লু। জয়ের একেবারে দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছিল রাহানে ব্রিগেড। কিন্তু শেষ ৫২ বলে একটি উইকেট আর তুলতে পারলেন না অক্ষর প্যাটেল-উমেশ যাদবরা। স্কোরবোর্ডের ১৬৫ রান তুলতে গিয়ে ৯টি উইকেট খোয়াল ব্ল্যাক ক্যাপস। যদিও তাতে আক্ষেপের কিছুই নেই। আসল কাজটি কিন্তু সেরে ফেললেন রাচিন রবীন্দ্র এবং আজিজ প্যাটেল জুটি। ৯১ বলের মোকাবিলা করে ১৮ রানে অপরাজিত থেকে ভারতের মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়ে গেলেন রবীন্দ্র। উল্টোদিকে আজিজও ২৩টি বল খেলেছিলেন। কিন্তু বাইশগজ আঁকড়ে পড়ে থাকেন তাঁরা। শত চেষ্টা করেও ভারতীয় বোলাররা সাজঘরের পথ দেখাতে পারেননি এই জুটিকে।

ভাঙা পিচ, বল ঘুরছে। চক্রব্যুহর মতো ঘিরে ধরেছেন ভারতীয় ফিল্ডাররা। বিপক্ষে রবিচন্দ্রন অশ্বিন, রবীন্দ্র জাদেজা, অক্ষর প্যাটেলদের মতো স্পিনার। টানটান উত্তেজনা। তবে নিউজিল্যান্ডও দেখিয়ে দিল, কোনও ফ্লুকে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়ন হয়নি তারা। কেন উইলিয়ামসন বাহিনীর বিরুদ্ধে ড্র দিয়েই লাল বলের ক্রিকেটে দ্রাবিড় যুগের সূচনা করল টিম ইন্ডিয়া।

সোমবার কিউইদের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২৮০ রান। আর ভারতকে তুলতে হত ৯ উইকেট। এদিন জয় নাকি ড্র, কী লক্ষ্য নিয়ে নিউজিল্যান্ড খেলা শুরু করে, সেটাই ছিল দেখার। প্রথম সেশনে কোনও উইকেট না খুইয়ে ৭৫ রান তুলেও ফেলেছিল নিউজিল্যান্ড। সেই সময় মনে হচ্ছিল, ম্যাচটি হয়তো জিতে যাবে তারা। পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকা ম্যাচ ফের ভারতের দিকে ঝুঁকে পড়ে পরের দুই সেশনে। সামারভিলেকে (৩৬) ফিরিয়ে টিম ইন্ডিয়ার মোমেন্টাম এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দেন উমেশ যাদব।

এরপর ল্যাথামকে সঙ্গ দিতে থাকেন উইলিয়ামসন। তবে বেশিক্ষণ টেকেনি এই জুটি। ৫২ রান করে ল্যাথাম ফিরতেই ধস নামে কিউইয়ের ব্যাটিং লাইনআপে। উইলিয়ামসনের অবদান ২৪। দ্রুত রস টেলর (২), হেনরি নিকোলস (১), টম ব্লান্ডেল (২)- প্যাভিলিয়নে পাঠিয়ে জয়ের স্বপ্নে বুঁদ হয়ে যায় ভারত। কিন্তু রাচিন রবীন্দ্র রাহানে-পূজারাদের সব পরিকল্পনায় জল ঢেলে দেন। উল্টোদিক থেকে উইকেট পড়তে থাকলেও, একটা দিক ধরে রাখেন এই ম্যাচে টেস্ট অভিষেক হওয়া রবীন্দ্র। এই ম্যাচ জিততে না পারায় অবশ্য বিশেষজ্ঞরা আঙুল তুলেছেন ভারতীয় বোলারদের দিকেই। অশ্বিন-ইশান্তদের ব্যর্থ হিসাবেই গণ্য করছেন তারা।

প্রসঙ্গত, ভারত প্রথমে ব্যাট করে ৩৪৫ রান তোলে। অভিষেক ম্যাচে দুরন্ত শতরান হাঁকান শ্রেয়স আয়ার। জবাবে অক্ষর প্যাটেলের পাঁচ উইকেটের সৌজন্যে ২৯৬ রানে থেমে যায় কিউইদের প্রথম ইনিংস। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেট খুইয়ে ২৩৪ রান তুলে ডিক্লেয়ার করে দেন রাহানে। আর নিউজিল্যান্ড ৯ উইকেটে শেষ পর্যন্ত ১৬৫ রান তুলতে সক্ষম হয়। প্রথমটির মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও তিনটি উইকেট দখল করেন অশ্বিন। এই ইনিংসে সর্বোচ্চ চার উইকেট পান জাদেজা। একটি করে উইকেট ঝুলিতে পুরেছেন অক্ষর ও উমেশ। ইশান্ত শর্মা পুরো ম্যাচেই কোনও উইকেট দখল করতে পারেননি। প্রথম ইনিংসে শতরানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে হাফসেঞ্চুরি করেন শ্রেয়স। যার সুবাদে দিল্লি এই ডানহাতি ব্যাটারের হাতেই উঠেছে ম্যাচ সেরার পুরস্কার।