‘পঞ্জাবের অমরিন্দর সিংয়ের সরকারের থেকে এবং সংবাদপত্র ঘেঁটে কৃষক মৃত্যুর তথ্য জেনে নিন’, কেন্দ্রকে নিশানা চিদম্বরমের

43
'পঞ্জাবের অমরিন্দর সিংয়ের সরকারের থেকে এবং সংবাদপত্র ঘেঁটে কৃষক মৃত্যুর তথ্য জেনে নিন', কেন্দ্রকে নিশানা চিদম্বরমের

মহানগর ডেস্ক: সংসদের শীতকালীন অধিবেশনের শুরুর দিনই প্রথমে লোকসভায় এবং পরে রাজ্যসভায় পাস করানো হয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকারের তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহারের বিল। কিন্তু কোনও আলোচনা ছাড়াই এইভাবে বিল পাস করানোয় মোদি সরকারের বিরূদ্ধে নিজেদের ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছিলেন বিরোধীরা। গত এক বছর ধরে চলা কৃষক আন্দোলনে প্রাণ হারিয়েছিলেন প্রায় ৭৫০ জন কৃষক, তাঁদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও তুলেছিল বিভিন্ন বিজেপি বিরোধী দলগুলো। কিন্তু ‘ কৃষক আন্দোলনে কোনও কৃষকের মারা যাওয়ার তথ্য নেই কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে, অতএব আর্থিক ক্ষতিপূরণের কোনও প্রশ্নই ওঠে না’, বুধবার এমনটাই জানিয়ে দেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমার। মোদি সরকারের এইরূপ ঘোষণার বিরুদ্ধে এবার সুর চড়ালেন কংগ্রেস নেতা পি চিদাম্বরম।

বুধবার নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে টুইট করে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী। তিনি লিখেছেন,’ সরকার বলছে যে আন্দোলন চলাকালীন কোনও কৃষকের মৃত্যুর তথ্য নেই তাদের কাছে। তাহলে এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত পঞ্জাবের তৎকালীন ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিংয়ের অধীনস্থ সরকারের থেকে জেনে নেওয়া। কারণ সেই সময়ে পঞ্জাব সরকার কৃষক মৃত্যুর পরিসংখ্যান তৈরি করেছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘ এরপর সরকারের উচিত আগের সংবাদপত্র গুলো ঘেঁটে দেখে এবং বিভিন্ন রাজ্যগুলোর থেকে কৃষকদের মৃত্যুর রিপোর্ট থেকে তথ্য সংগ্রহ করা।’

 

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রকের এইরূপ মন্তব্যের বিরোধীতায় বুধবারই সরব হয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ মল্লিকার্জুন খর্গেও। তিনি বলেন,’এটা কৃষকদের প্রতি অপমান। তিনটি কৃষি আইনের বিরুদ্ধে কৃষক আন্দোলনের সময় ৭০০ জনেরও বেশি কৃষক মারা গিয়েছিলেন। কেন্দ্র কীভাবে বলতে পারে যে তাদের কাছে কোনও তথ্য নেই?’ তিনি কেন্দ্রীয় সরকারকে আরও কড়া ভাষায় তুলোধোনা করে বলেন,’ যদি সরকারের কাছে ৭০০ জনের রেকর্ড না থাকে তাহলে মহামারী চলাকালীন তারা কীভাবে লাখ লাখ মানুষের ডেটা সংগ্রহ করেছিল? গত ২ বছরে করোনার কারণে ৫০ লাখেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে কিন্তু সরকারের মতে, মাত্র ৪ লাখ মানুষ ভাইরাসের কারণে মারা গেছে।’