Home Featured Saptami: সপ্তমীর সকালে ঘাটে ঘাটে চলে কলাবউ স্নান! কি এই রীতি? চলুন জেনে নেওয়া যাক

Saptami: সপ্তমীর সকালে ঘাটে ঘাটে চলে কলাবউ স্নান! কি এই রীতি? চলুন জেনে নেওয়া যাক

by Arpita Sardar

মহানগর ডেস্ক: ঢাকের বাদ্যি বাজিয়ে মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিষ্ঠা হয়েছে মহামায়া। এবার শুধু উৎসবের শেষ আনন্দটুকু ছেঁকে নেওয়ার পালা। যতই প্রথমে থেকে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়ে মহানগরী সহ আশেপাশের জেলাগুলি জনজোয়ারে প্লাবিত হলেও মণ্ডপে মা উমার প্রতিষ্ঠা সূচিত হয় মহা সপ্তমীর ভোরে কলা বউ স্নান অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। পুরনো প্রথা অনুযায়ী তাই গঙ্গার ঘাটে ঘাটে চলে এই স্নানানুষ্ঠান।
কলকাতার বাগবাজার ঘাট থেকে জলপাইগুড়ির করলা নদীর ঘাট সর্বত্র এই চেনা ছবি। সঙ্গে ঢাকের বাদ্যি মাস্ট। কিন্তু গ্রামীণ অনেক পূজো রয়েছে যেখানে নেই পবিত্র গঙ্গার ঘাট। তাহলে তারা কি করে এদিন? তারা কোনও জলাশয়কে পবিত্র বলে ধরে নিয়ে সেখানেই এই কলাবউকে পরম ভক্তিতে স্নান করান। তবে এই পবিত্রতায় ত্রুটি না রাখতে গ্রামের মেয়ে, বউ, ছেলেরা মিলে সুদূর কালীঘাট এর পাশ দিয়ে বয়ে চলা গঙ্গার জল আনতে বেরিয়ে পড়েন ষষ্ঠীর রাতে। এরপর সপ্তমীর ভোরে সেই জলে অর্পণ করা হয় কলাবউকে। এই প্রথা মেনে কলা বউ স্নানের একটি গ্রামীন পূজোর নিদর্শণ দক্ষিণ 24 পরগনার উস্থির বইঞ্চবেরিয়া নির্ভীক সংঘ সার্বজনীন দুর্গোৎসব।

তবে সপ্তমীর ভোরে অনুষ্ঠিত হওয়া এই কলাবউ স্নানের শাস্ত্র মতে নাম আদতে নবপত্রিকা স্নান। নব পত্রিকা অর্থাৎ নয়টি গাছের পাতা মহামায়ার নয়টি রূপ। সেই নয়টি রূপকে স্নান করিয়ে একত্রে প্রতিস্থাপিত করা হয় এবং চারদিন ধরে চলে আরাধনা। এই নয়টি পত্র ঠিক কি কি দেখুন। ১.কদলী/কলা বা রম্ভা (ব্রাহ্মণী), ২.কচু (কালিকা), ৩.হরিদ্রা বা হলুদ (উমা), ৪.জয়ন্তী (কার্তিকী), ৫.বিল্ব (বেল, শিবা), ৬.দাড়িম্ব বা ডালিম (রক্তদন্তিকা), ৭.অশোক (শোকরহিতা), ৮.মানকচু (চামুণ্ডা) ৯.ধান (লক্ষ্মী)। বাকি আটটি উপকরণ কলাগাছের সাথে মিশে মহামায়ার শরীর তরী হয়, যা দৃশ্যমান থাকেনা। কেবল কলা গাছের সিঁদুর মাখানো পাতা ঘোমটার আড়াল থেকে দেখা যায় বলে প্রচলিত অর্থে এই নবপত্রিকার নাম কলা বউ। একটি সপত্র কলাগাছের সঙ্গে বাকি আটটি সমূল সপত্র উদ্ভিদ একত্র করে স্ত্রীরূপের জন্য দু’টি বেল দিয়ে স্তনযুগল সৃষ্টি করে শ্বেত অপরাজিতার লতা দিয়ে বেঁধে লালপাড় সাদা শাড়ি জড়িয়ে ঘোমটা দেওয়া বধূর আকারে দেবীপ্রতিমার ডান দিকে থাকা গণেশের পাশে দাঁড় করিয়ে পূজা করা হয়।

এপ্রসঙ্গে নির্ভীক সংঘের প্রধান পুরোহিত রমেশ চন্দ্র চক্রবর্তী মহানগর ২৪×৭ কে জানান,’শাস্ত্র মতে সপ্তমীর সকালে যাবতীয় বিধি মেনে নবপত্রিকাকে স্নানের জন্য কাছের এক পবিত্র জলাশয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে স্নানের পর মণ্ডপে এনে তাঁকে বরণ করে শুদ্ধ বস্ত্রে মাকে গণেশের পাশে প্রতিষ্ঠা করে বাকি চারদিন পূজো করা হয়।’ তাঁর আরও সংযোজন, ‘গণেশের পাশে থাকার কারণে অনেকেই নবপত্রিকাকে গণেশের স্ত্রী হিসেবে মনে করেন। কিন্তু আদতে তা নয়, এই নবপত্রিকাকে মূলত মহামায়ার বাকি নয়টি রূপকে একত্র করে শক্তির আরাধনা চলে। এই দুর্যোগ, অরাজগতা থেকে পৃথিবীকে মুক্ত রাখার অনুরোধ জানানো হয়।’

এভাবেই বছরের পর বছর কলকাতা সহ জেলার প্রতিটি প্রান্তে কলাগাছে হলুদ মাখিয়ে, সেই গাছকে নদীতে কিংবা জলাশয়ে স্নান করিয়ে, ঢাক বাজিয়ে ও পুরোহিতের পবিত্র মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে নবপত্রিকা বা কলা বউ স্নান এর এই রীতি পালনের মধ্যে দিয়ে দুর্গা পূজার মূল পর্ব শুরু হয়ে যায়। আর এদিনের এই স্নান দেখতে যেমন শহরের ঘাটে ঘাটে ভিড় জমেছিল, ঠিক তেমনি গ্রামীণ মেয়ে-বধুরাও তাদের নির্দিষ্ট পবিত্র জলাশয়ে ভিড় জমায় দুর্গাপুজোর সঙ্গে যুক্ত থাকা এই প্রথাকে চাক্ষুস করার জন্য। কেউ কেউ আবার মায়ের এই স্নানের জলকে পবিত্র বলে মনে করে বসত ভিটেতে সংরক্ষণ করেন।

You may also like