যেখানে সেখানে আন্দোলন নয় : শাহীনবাগ প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট

64

মহানগর ডেস্ক: ‘আন্দোলন করা জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার, কিন্তু দীর্ঘক্ষণ রাস্তা অবরোধ করে যেখানে সেখানে যখন খুশি আন্দোলন মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়’ – শাহীনবাগের এনআরসি বিরোধী আন্দোলনের একটি মামলার রায় দিতে গিয়ে আন্দোলনকে এভাবেই ‘বাঁধাধরা ছকে’ বেঁধে দিল দেশের শীর্ষ আদালত।

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন পাস হওয়ার পর থেকেই প্রতিবাদ বিক্ষোভে ফেটে পরে গোটা দেশ। জেএনইউ থেকে যাদবপুর, জামিয়া থেকে আলিয়া, পার্ক সার্কাস থেকে শুরু করে শাহীনবাগ, নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের রেশ ছড়িয়ে পরে দেশের প্রতিটা প্রান্তে। এই আইনকে ঘিরে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় অসম, দিল্লির মতো বেশ কিছু রাজ্যে। দিল্লির শাহিনবাগে পথ আটকে এই আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলে দীর্ঘদিন। যার জেরে অসুবিধায় পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। বিষয়টি শীর্ষ আদালত পর্যন্ত গড়ালে আদালতের পর্যবেক্ষণ, আন্দোলনের অধিকার যেমন আছে, তেমনই নগরিক কর্তব্যের কথাও মাথায় রাখতে হবে। সরকারী জায়গা দখল করে দীর্ঘদিন আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া কাম্য নয়।

শনিবার এই মামলার শুনানি হয় বিচারপতি এস কে কল, অনিরুদ্ধ বসু এবং কৃষ্ণা মুরারির ডিভিশন বেঞ্চে। আদালত স্পষ্টতই জানায়,  প্রতিবাদ কিংবা আন্দোলন জনগণের সাংবিধানিক অধিকারের মধ্যে পড়লেও তার কিছু নিয়মনীতি রয়েছে। প্রতিবাদের অধিকার সবসময় সবজায়গায় প্রয়োগ করা যায়না। স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে প্রতিবাদ হতেই পারে, কিন্তু কখনও তা সরকারী জনবহুল এলাকা দখল করে রেখে দীর্ঘদিন চলতে পারেনা।

করোনা সংক্রমণের কারণে শাহীনবাগের আন্দোলন মাঝপথে বন্ধ হলেও করোনা আবহেই দেশ জুড়ে শুরু হয়েছে কৃষক আন্দোলন। দিল্লি উপকন্ঠে প্রায় তিন মাস ধরে রাস্তা আটকে অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে কৃষকরা। আন্দোলন তুলে দেওয়ার জন্য একাধিক বার সচেষ্ট হতে দেখা গেছে প্রশাসন কে। সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ যে অনেকটাই সুবিধা করে দিল কেন্দ্রকে, তা বলাই বাহুল্য। এবার কি দিল্লিতে চলা কৃষক আন্দোলনকে তুলে দিতে সচেষ্ট হবে কেন্দ্র? জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।