#OffBeat: দোহাই, নো হ্যাপি পুজো, মহালয়া কিন্তু পিতৃতর্পণের করুণ কাহিনি

591
mahalaya

তিয়াষা গুপ্ত: বাজল তোমার আলোর বেণু৷ মহালয়ার সকাল৷ আকাশবাণী কলকাতায় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের মহিষাসুরমর্দিনী৷ মহালয়ার সকাল মেনেই ঘরে ঘরে রেডিয়োয় চণ্ডীপাঠ৷ মহালয়ার সঙ্গে সরাসরি পুজোর যোগ নেই৷ মহালয়ার পরের দিন, প্রতিপদ থেকে দেবীপক্ষ আরম্ভ, চলবে লক্ষ্মীপুজো অবধি। যে চণ্ডীপাঠ পুজোর আবহ তৈরি করে, তা প্রথম শুরু হয়েছিল মহাষষ্ঠীর ভোরে৷

১৩৩৯ বঙ্গাব্দের (১৯৩২ খ্রিস্টাব্দ) আশ্বিন মাস। দুর্গাপুজোর মহাষষ্ঠীর ভোরে তত্‍কালীন ‘ইন্ডিয়ান ব্রডকাস্টিং সার্ভিস’ নামে পরিচিত কলকাতা বেতার কেন্দ্র থেকে সম্প্রচার হল এক অভিনব আগমনী গীতি-আলেখ্য ‘মহিষাসুরমর্দিনী। রচনা- বাণীকুমার, মিউজিক কম্পোজিশন- পঙ্কজকুমার মল্লিক, স্ত্রোত্রপাঠ- বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র। এর সঙ্গে দুর্গাপুজোর সম্পর্ক নেই, নেহাতই মর্নিং এলার্ম হিসেবে এটি সম্প্রচার করা হয়ে থাকে। মহালয়ার নেপথ্যে রয়েছে মহাভারতের কর্ণের জীবনের অনুসঙ্গ৷

কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের পর কর্ণ যখন স্বর্গে গেলেন, তখন ইন্দ্র তাঁকে সোনা এবং ধনরত্ন খেতে দিলেন। কর্ণ এর কারণ জানতে চাইলে ইন্দ্র বলেন, যেহেতু কর্ণ সারাজীবন সোনাদানা, ধনরত্ন বিলিয়েছেন এবং পূর্বপুরুষদের জল পর্যন্ত দেননি তাই শাস্তি তাঁকে পেতে হচ্ছে। কর্ণ বলেন, তিনি তাঁর পিতৃগণের সম্পর্কে অবহিত ছিলেন না, তাই তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে পিতৃগণকে স্বর্ণ প্রদান করেননি। এই কারণে কর্ণকে ষোলো দিনের জন্য মর্ত্যে গিয়ে পিতৃলোকের উদ্দেশে অন্ন ও জল প্রদান করার অনুমতি দেওয়া হয়। এই পক্ষই পিতৃপক্ষ নামে পরিচিত হয়।

তর্পণ হল জল দিয়ে পিতৃপুরুষ ও দেবতাদের তৃপ্তিবিধায়ক অনুষ্ঠান। এর অপর নাম পিতৃযজ্ঞ। এই অনুষ্ঠানে ব্রহ্মা-বিষ্ণু-শিব প্রমুখ দেবতা, সনক-সনন্দ প্রমুখ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সপ্তর্ষি, চতুর্দশ যম ও দ্বাদশ পূর্বপুরুষ (পিতা, পিতামহ, প্রপিতামহ, মাতামহ, প্রমাতামহ, বৃদ্ধপ্রমাতামহ, মাতা, পিতামহী, প্রপিতামহী, মাতামহী, প্রমাতামহী ও বৃদ্ধপ্রমাতামহী) এবং ত্রিভুবনের উদ্দেশে জল দেওয়া হয়। পিতৃপক্ষের সময় তিলতর্পণ অনুষ্ঠিত হয়; অর্থাৎ তিল-মেশানো জলে তর্পণ হয়। পিতৃতর্পণের সঙ্গে দুর্গাপূজার সরাসরি যোগ নেই। দুর্গাপূজার কল্পারম্ভ মহালয়ায় হয় না। কাজেই মহালয়াতে নো হ্যাপি পুজো৷