কম্পাউন্ডার ও নাইটগার্ডরাই দিচ্ছেন ইঞ্জেকশন, কোনওরকমে দায়সারা ভাবেই চলছে পশু চিকিৎসালয়

96

নিজস্ব প্রতিনিধি, নদিয়া: নদিয়ার শান্তিপুর থানার মতিগঞ্জ মোড়ে নামকে ওয়াস্তে রয়েছে সরকারি পশু চিকিৎসা কেন্দ্র। অথচ নেই পশু চিকিৎসার চিকিৎসক। কোনওরকমে কম্পাউন্ডারের মাধ্যমে চলছে সেই পশু চিকিৎসা কেন্দ্র।

প্রাণের থেকেও বেশি ভালোবেসে যাঁরা অবলা জীবদের লালন পালন করেন, সেই সব মানুষরা নিজের পোষ্যদের অসুস্থ হওয়ার পর নিয়ে যান সেই পশুচিকিৎসা কেন্দ্রেই। কিন্তু চিকিৎসকের অভাবে সেইসব অসুস্থ পশুরা পায়না ঠিকমতো চিকিৎসা। ফলে কারুর দীর্ঘদিনের গরু বা প্রিয় কুকুরটি চিকিৎসার অভাবে মারা যায়।

পশুপ্রেমীদের অভিযোগ, পশুদের চিকিৎসা করাতে গিয়ে পাওয়া যাচ্ছেনা চিকিৎসককে। কম্পাউন্ডার ও নাইটগার্ডেরা না বুঝেই পশুদের দিচ্ছেন ইঞ্জেকশন, এমনটাই অভিযোগ করছেন গবাদি পশু পালন করা কৃষকরাও। প্রিয় পশুদের বাঁচানো যাচ্ছেনা এমনকি বাড়ির পোষ্যদের নিয়ে এসেও পাওয়া যায়না চিকিৎসা।

কার্যত বিনা চিকিৎসায় পশুরা মারা যাচ্ছে। কাউকে বলে কোনও কাজ হচ্ছে না। তিন বছরের ওপরে এই চিকিৎসাকেন্দ্রে পশুদের কোনও ডাক্তার নেই। যদিও এ কথা স্বীকার করে নিয়েছেন ওই পশু চিকিৎসা কেন্দ্রের ফার্মাসিস্ট কৃষ্ণচন্দ্র মৃধা। তিনি জানিয়েছেন,’ আমরা কি করব? এই চিকিৎসাকেন্দ্র ডাক্তার রিটায়ার করেছেন। নতুন কোনও ডাক্তারের এখনও পোস্টিং করা হয়নি। তাই আমরা যেমন জানি সেই ভাবে চিকিৎসা করার চেষ্টা করছি। এর বেশি বলতে পারবোনা।’

ওই পশু চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা ভালোমতো না হওয়ার কারণে নিজের পোষ্য কুকুরকে প্রাইভেট ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান কুকুরের মালিক মদনমোহন সালমা। তিনি স্পষ্ট অভিযোগ করেছেন,’ এটা কার্যত জঙ্গলে রাজত্ব চলছে। এখানে কোন ওষুধ পালা নেই। ডাক্তার পাওয়া যায় না। তাই বাধ্য হয়ে প্রাইভেট ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হয়।’

নিজের ৭৫ হাজার টাকা দামের গরু স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে বাঁচাতে পারেননি শান্তিপুর সুত্রাগড় সেন পাড়ার বাসিন্দা সঞ্জয় বিশ্বাস। তাঁর অভিযোগ,’ এখানে দীর্ঘদিন ধরে কোনওর ডাক্তার নেই। ঔষধপত্র পাওয়া যায় না। ৮ হাজার টাকা খরচা করে আমি আমার গরুকে বাঁচাতে পারিনি।’

বাড়ির পোষ্য খরগোশকে নিয়ে এসে ডাক্তারের অভাবে চিকিৎসা পাননি শান্তিপুরের বাসিন্দা সুভাষ বাবু। ওই পশু চিকিৎসা কেন্দ্রের বিরুদ্ধে শান্তিপুরের মানুষের ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে। অথচ ডাক্তার রিটায়ার করার পরে নতুন করে কেন চিকিৎসক নিয়োগ করা হয়নি, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। তবে এ বিষয়ে ফুলিয়ায় অবস্থিত প্রাণী সম্পদ দপ্তরের আধিকারিক মুখ খুলতে চাননি। কেনই বা পাওয়া যায় না পশুদের চিকিৎসার ওষুধ, মেলেনি সেই প্রশ্নের উত্তরও।