‘যারা দেশ বিরোধী স্লোগান দেয়, তাদের জায়গা জেলে’, জেএনইউ ছাত্রদের টার্গেট অমিতের

19
bengali news on amit

Highlights

  • অমিতের গলায় ফের টুকরে টুকরে গ্যাং
  • “জেলে ভরা উচিৎ দেশ বিরোধীদের”
  • জবলপুরের সভা থেকে হুঙ্কার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

মহানগর ওয়েবডেস্ক: আক্রমণটা শানিয়েছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও দিল্লির বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে। সেই প্রসঙ্গেই টেনে আনলেন জেএনইউ-র টুকরে টুকরে গ্যাং-র কথা। রবিবার মধ্যপ্রদেশের জবলপুরে এক জনসভায় উচ্চস্বরে জেএনইউ-এ টুকরে টুকরে গ্যাং-র প্রসঙ্গে সরব কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এদিন তিনি বলেন, “যারা দেশ বিরোধী স্লোগান দেয় তাদের জায়গা হবে জেল”। তাঁর বক্তব্য, “জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু পড়ুয়া দেশ বিরোধী স্লোগান তুলেছিল। তারা স্লোগান তুলেছিল ভারত তেরে টুকরে হোঙ্গে হাজার, ইনসআল্লাহ, ইনসআল্লাহ। তাদের কি জেলে ভরা উচিৎ নয়?” সভায় উপস্থিত মানুষের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন অমিত শাহ।

জমায়েত হওয়া মানুষের উৎফুল্লতার মধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন. “রাহুল বাবা ও কেজরিওয়াল এইসব ছাত্রদের রক্ষা করার কথা বলছেন, কেন তারা কি আপনাদের খুড়তুতো ভাই?” প্রশ্ন অমিতের। যদিও টুকরে টুকরে গ্যাং-এর বিষয়ে সবিস্তারে কিছুই অভিযোগ এদিন করেননি অমিত শাহ। এদিন জবলপুরে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের সমর্থনে সভা করেন অমিত শাহ।

দিল্লি পুলিশ, তৎকালীন জেএনইউ ছাত্র সংসদের সভাপতি কানহাইয়া কুমার, উমর খালিদ সহ বেশ কয়েকজন পড়ুয়ার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছিল। অভিযোগ ছিল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই ভারত বিরোধী স্লোগান দিচ্ছিল তারা। ২০১৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি একটি অনুষ্ঠান চলাকালীনই দেশ বিরোধী স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসে। কানহাইয়া সহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করেছিল পুলিশ।

প্রসঙ্গত, গত ৫ জানুয়ারি, জেএনইউ ক্যাম্পাসে পড়ুয়া ও শিক্ষকদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে বহিরাগত মুখোশধারী দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। আক্রান্ত জেএনইউ ছাত্র সংসদের সভানেত্রী ঐশী ঘোষের ওপর হামলা চালানো হয় লোহার রড দিয়ে। ঐশীর রক্তাক্ত ছবি ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। অভিযোগ ওঠে এবিভিপি সদস্যদের বিরুদ্ধে।

যদিও পুলিশ এখনও পর্যন্ত এই হিংসার ঘটনায় যাদের চিহ্ণিত ও নাম প্রকাশ করেছে তাদের মধ্যে ঐশী ঘোষ সহ বামছাত্র সংগঠনের বেশ কয়েকজন পড়ুয়ার নামও রয়েছে। এরপরই বিভিন্ন মহল থেকে পুলিশের ভূমিকা নিযে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। প্রাক্তন ছাত্র সংসদ সভাপতি কানহাইয়া কুমার অভিযোগ করেন দিল্লি পুলিশ এবিভিপির মত কাজ করছে।

জেএনইউ-র এই সাম্প্রতিক হিংসার ঘটনাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের চিন্তা বেড়েছে। পুলিশের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত রিপোর্ট নিচ্ছে অমিত শাহ-র দফতর। এই ঘটনায় যখন ব্যাকফুটে বিজেপির ছাত্র সংগঠন সেদিক থেকে মোড় ঘোরাতেই অমিত শাহের এই কৌশল? অনেক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞই অবশ্য সেরকমই আঁচ করছেন।