অধিকারী পরিবারের ওপর কম হামলা হয়েছে? হুমকি দিয়ে লাভ হবে না, আপনি তো কোনছাড়: শুভেন্দু অধিকারী

49
Suvendu Adhikari
বামফ্রন্ট, কংগ্রেস কিছু করতে পারেনি, আপনি তো কোনছার, নাম না করেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ শুভেন্দুর।

মহানগর ডেস্ক: ফের একবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একহাত নিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার মেচেদা বাইপাস থেকে মিছিল শুরু করেছিল বিজেপি। সেই মিছিলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। মিছিলের পর সভা মঞ্চ থেকে হুঁশিয়ারি দেন তিনি তিনি। বলেন অধিকারী পরিবারের ওপর কম হামলা হয়েছে? ভেবেছিল ভয় দেখিয়ে বসিয়ে দেবে। পুলিশের সঙ্গে প্রতিদিন বৈঠক করছে। সিভিক ভলেন্টিয়ারদের ওপর চাপ দেওয়া হচ্ছে। আপনি ইতিহাস জানেন না। আপনার বয়স কম। একই সঙ্গে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, ১৯৮৬ সালে দেশের সবচেয়ে বড় জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন রাজীব গান্ধী। ৪০৩ টি এমপি ছিল তাঁর। ইন্দিরা গান্ধি মারা যাওয়ার পরও ছিল। সেখানকার সাংসদ ফুলরেনু তৃণমূলে ছিলেন। রাজীব গান্ধী তিনটে হেলিকপ্টার নিয়ে আমাদের এই মাঠে এসেছিলেন। আমাদের যাওয়ার সৌল যে মাঠ এখন সেখানে সেখানে অনেক বাড়ি হয়ে গিয়েছে। সেখানে অধিকারীদের বিরুদ্ধে রাজীব গান্ধীকে বলানো হয়েছিল।

তিনি আরও যোগ করেন, আর সেই প্রথম এখান থেকে বামফ্রন্টের এমএলএ সুখেন্দু মাইতি জিতেছিলেন। কংগ্রেস জিতে পারেনি। রাজীব গান্ধীর কথা লোক গ্রহণ করেননি। প্রবাদপ্রতিম কমিউনিস্ট নেতা সাড়ে ২৩ বছরের মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বাবুকে ১৯৯৫ সালে বামফ্রন্ট এনেছিলেন। সেদিনও পুরসভার অবিভক্ত কংগ্রেস শিশির অধিকারী জিতেছিল। আমিও কাউন্সিলর হয়েছিলাম। আপনারা এদের থেকে শক্তিশালী নন। এসব ধমক দিয়ে লাভ নেই। যাকে যা বলেছেন সব আমার কাছে রেকর্ড রয়েছে।

এদিন শুভেন্দু অধিকারী আরও জানিয়েছেন, কাঁথির লোক মোদিজীর কথায় বিজেপিকে উপহার দিয়েছে। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এনেছিলেন ২৫ তারিখ ফাঁকা মাঠে ১২০০ লোক। যা নিয়ে অনেক বড় লেকচার মেরে ছিলেন তিনি। ভোট আপনারা হেরেছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নন্দীগ্রামের লোক বুঝিয়ে গণতান্ত্রিকভাবে চলুন। ভদ্রভাবে চলুন। গণতন্ত্রে কোনও দল বেশি দিন থাকে না। খুব না আপনার। আমার হাতে জন্ম দেওয়া লোক গুলোকে নিয়ে বড় নাচানাচি করছেন। বড় নেত্রী হয়ে গিয়েছেন আপনি!

এখানেই থেমে থাকেননি শুভেন্দু। তিনি আরও জানিয়েছেন, স্বাধীনতার পর থেকে লোকের জানত শতশত বছর কংগ্রেস থাকবে। কংগ্রেস ছাড়া আর কেউ থাকবে না। এখন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা কংগ্রেসের একজনও নেই। ৩৪ বছর বামেরা জামানায় মানুষ ভক্ত সিপিএম যত দিন চাইবে এখানে থাকবে। এবার বিধানসভায় সিপিএমের একজন সদস্য নেই। এত ধর্ম কেন? পৃথিবীটা গোল। সব যোগ-বিয়োগের হিসাবে এই জন্মে হয়ে যাবে।