বিলম্বিত বোধোদয়! গোয়ায় কংগ্রেসের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধছে তৃণমূল!

15

নিজস্ব প্রতিনিধি: বিলম্বিত বোধোদয় তৃণমূলের! শেষমেশ কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গড়তে আগ্রহী হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, তৃণমূলকে কংগ্রেসের সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন করতে হচ্ছে কারণ একাধিক সমীক্ষায় যে চিত্র উঠে এসেছে, তা তৃণমূলের পক্ষে খুব একটা সুখকর নয়। সেই কারণেই চলছে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বাঁধার প্রচেষ্টা। বর্ষীয়ান এনসিপি নেতা শারদ পাওয়ার ইতিমধ্যেই দৌত্য করতে শুরু করেছেন। ওয়াকিবহামহলের মতে, জাতীয় রাজনীতিতে টিকে থাকতে হলে কংগ্রেসের হাত ধরতেই হবে তৃণমূলকে। তা না হলে ২০১১ সালের পুনরাবৃত্তি হবে।

কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে বিজেপি-বিরোধী জোট গড়তে উদ্যোগী হন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি মহারাষ্ট্রে গিয়ে কথা বলেন এনসিপি ও শিবসেনা নেতার সঙ্গে। এই সময় শিবসেনা এবং শারদ পাওয়ারের তরফে মমতাকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে বিজেপি-বিরোধী জোট দানা বাঁধতে পারে না। তার পরেও তৃণমূলের মুখপাত্রে মমতাকেই বিজেপি বিরোধী জোটের নেত্রী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা চালিয়ে যায় তৃণমূল। শেষমেশ বোধদয় হয়, কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে জোট গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

এর পুরো কৃতিত্ব পাওয়ারের! তিনিই তৃণমূল নেতৃত্বকে বোঝান, বিজেপিকে হারাতে হলে প্রয়োজন বৃহত্তর জোটের। যে জোটে অবশ্যই চাই কংগ্রেসকে। শিবসেনার তরফে সঞ্জয় রাউতও স্পষ্ট জানিয়ে দেন মমতাকে, কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে যদি কোনও জোট সম্ভব হয় ও, তাহলেও তা কার্যকরী হবে না। সম্প্রতি গোয়ায় বেশ কয়েকজন নেতা মোহভঙ্গ হওয়ার তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে ফিরেছেন। স্বাভাবিকভাবেই দুর্বল হতে শুরু করেছে তৃণমূল। প্রত্যাশিতভাবেই পথ খুঁজছে মুখ রক্ষার।

এদিকে, গোয়ায় বিজেপির একমাত্র ভরসা বিরোধীদের মধ্যে ভোট ভাগাভাগি। হিসেব বলছে, একমাত্র ভোট ভাগ হলেই এবার গোয়া দখল করতে পারবে বিজেপি। তা না হলে বিজেপির সম্ভাবনাই দেখছেন না ওয়াকিবহাল মহল। বিভিন্ন জনমত সমীক্ষায়ও আভাস, বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারে যদি তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে জোটে না যায়। তবে ভোট কাটাকুটির খেলায় বিজেপির জয় হবে বলেই ধারণা বিজেপিরও। তাই কংগ্রেস-তৃণমূল জোট বাঁধলে বিজেপির গোয়া জয় নিছক কেক না হলেও বিজেপির হারের সম্ভাবনা প্রবল।