ফের প্রকাশ্যে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, দলের নেতাদের বিরুদ্ধেই মাটি পাচারের অভিযোগ ঘাসফুল শিবিরের বিধায়কের

107

নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদা: আবারও বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন রতুয়ার তৃণমূল বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়। নদী থেকে মাটি তোলা নিয়ে আবার কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন মালদার রতুয়া ১ নম্বর ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি ফজলুল হক রতুয়া থানার আইসিকে। তিনি অভিযোগ করেছেন যে আগের মতই চলছে মাটি পাচারের ঘটনা।

তবে তাঁর এই অভিযোগ অস্বীকার করে সিবিআই তদন্তের দাবি করেছেন রতুয়া 1 নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতির। বিধায়কের মন্তব্যকে সমর্থন করেছেন জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সি। অন্যদিকে বিজেপির কটাক্ষ,’ মাটি পাচারের কোটি কোটি টাকার ভাগের বখরা নিয়ে ঘাসফুলের অন্দরের বিবাদ চলছে।’

প্রতিদিন ফুলহার নদী থেকে মাটি পাচারের ঘটনা নিয়ে ফের সরব হলেন তৃণমূল বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘ফজলুল হক তৃণমূলের বোরখা পরিহিত বিজেপি সমর্থক। রতুয়া থানার আইসি সুবীর কর্মকারের বদলি দাবি করেছি আমি। রাতে এই মাটি মাফিয়ারা থানায় টাকা পয়সা দিয়ে এই সব কাজকর্ম করে। আর টাকার বিনিময়ে ভেতরে ভেতরে বিজেপির সাথে যোগাযোগ রাখে। সেই কারণেই আইসি এই ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে। কলকাতায় গেলে বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীকে জানাব। রতুয়া নাককাটি ব্রিজকে ফেলে দেওয়ার চক্রান্ত করছে এরা।’

যদিও সমর মুখোপাধ্যায়ের এই অভিযোগ মানতে নারাজ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি ফজলুল হক। তিনি বলেন,’উনি পাগল হয়ে গেছেন। ওনার জানা উচিত আমি একজন শিক্ষক। তিনি যে কথাগুলো বলছে সেগুলো মিথ্যে কথা এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত। উনি এখানে সিবিআই ডাকুন তদন্ত করে প্রমাণ করুক যে এখানে ফজলুল হক জড়িত কিনা।’

যদিও জেলা তৃণমূল সভাপতি বিধায়কের পাশে দাঁড়িয়েছেন। জেলা তৃণমূল সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সি বলেন,’বিধায়কের বাড়ি ওখানেই। তাই উনি যা বলছেন সঠিক কথাই বলছেন। আমরা এই বিষয়ে রাজ্য নেতৃত্ব সাথে কথা বলব।’

যদিও এই ঘটনাকে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। বিজেপি দক্ষিণ মালদার সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক অম্লান ভাদুড়ি বলেন, ‘মাটি নিয়ে কোটি কোটি টাকার কারবার চলছে। আর সেই টাকার ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে এই গন্ডগোল। প্রশাসন এবং তৃণমূলের নেতারা এই ঘটনার সাথে যুক্ত।’