বিজেপি ভাঙাতে বাবুলই হাতিয়ার তৃণমূলের!

8

নিজস্ব প্রতিনিধিবিজেপি ভাঙাতে বাবুলই হাতিয়ার তৃণমূলের! অন্তত এমনই ধারণা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। এঁদের মতে, বাবুলকে দিয়ে গেরুয়া ঘরে ফাটল ধরাতে চাইছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। বিক্ষুব্ধদের ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলে শিবিরে ভাঙন ধরাতে চাইছেন তাঁরা।

কিছুদিন আগে আচমকাই বিজেপি ছেড়ে প্রাক্তন মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় হাতে তুলে নেন জোড়াফুল আঁকা ঝান্ডা। তার পর প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে তিনি ছিলেন স্পিকটি নট। তবে আজ, বুধবার প্রধানমন্ত্রীকে বাঙালি বিদ্বেষী বলে দেগে দিলেন আসানসোলের সাংসদ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাঙালি বিদ্বেষী। বিজেপি বাঙালি বিদ্বেষী একটা দল। তাই ভোটে জিতে আসা বাঙালিদের প্রতি কোনও সম্মান নেই তাঁদের। বাবুলের অভিযোগ, বাঙালি সাংসদদের প্রতি অসামঞ্জস্যপূর্ণ আচরণ করছে বিজেপি। গত সাত বছরে বাংলা থেকে একজন সাংসদকেও পূর্ণমন্ত্রী করা হয়নি। এর পরেই বিজেপির অন্দরে খোঁচা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন আসানসোলের সাংসদ। তিনি বলেন, বর্ধমান-দুর্গাপুরের বিজেপি সাংসদ সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া দলে সম্মান পাচ্ছেন না। আলুওয়ালিয়াজি একজন প্রবীণ মানুষ। দল তাঁকে কোনও সম্মান দেয়নি। ওঁকে কোনও স্বাধীন মন্ত্রকও দেওয়া হয়নি।

রাজনৈতিক মহলের মতে, বাবুল হাতিয়ার প্রয়োগ করেই বিজেপিকে ‘শেষ’ করতে চাইছে তৃণমূল। ঠিক যেভাবে শুভেন্দু অধিকারিকে হাতিয়ার করে জোড়াফুল শিবিরকে নিশানা করছেন গেরুয়া নেতৃত্ব। টানা সাত বছর মোদি মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী থাকার দরুন বিজেপির ফাঁকফোকরগুলো বাবুল ভালোই জানেন। সেটাকেই কাজে লাগিয়ে বাজিমাত করতে চাইছে তৃণমূল।

একুশের বিধানসভা নির্বাচনের সময় বিজেপিকে বাঙালি বিদ্বেষী বলে দেগে দিয়েছিল তৃণমূল। সেই বাঙালি সেন্টিমেন্টেই কিস্তিমাত হয়েছিল। এবার বাবুলকে দিয়েও সেই বাঙালি সেন্টিমেন্টেই সুড়সুড়ি দিয়ে গেরুয়া ঘর ভাঙার প্রয়াস বলে ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।