হরিয়ানায় নয়া কর্মসূচি তৃণমূলের, রাজ্যের ২২ টি জেলায় শুরু হতে চলেছে ‘প্রগতি যাত্রা’

48

মহানগর ডেস্ক: গত বছরের ডিসেম্বর মাসে হরিয়ানার গুরগ্রামে নিজেদের প্রথম দলীয় কার্যালয় উদ্বোধন করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। আর একই সঙ্গে সেই রাজ্যের বেশ কিছু মানুষ এদিন ঘাসফুল শিবিরে যোগদানও করেছিলেন বলে জানা গিয়েছিল। ত্রিপুরা, গোয়া, মেঘালয়ের পর এই রাজ্যেও নিজেদের সংগঠনের মাটি শক্ত করতে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল।

এবার এই রাজ্যে এক বিশেষ রাজনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ করল তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে চলতি মাসের ২৩ তারিখ থেকে তারা শুরু করতে চলেছে ‘ প্রগতি যাত্রা ‘ যা হরিয়ানার ২২ টি জেলাতেই হবে। আর এই যাত্রায় বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শ এবং তাঁর একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের প্রচার করা হবে। এর পাশাপাশি সেই ২২ টি জেলাতেও নিজেদের কার্যালয় স্থাপন করতে চলেছে ঘাসফুল শিবির, সূত্র অনুযায়ী এমনটাই জানা গিয়েছে।

এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে এই রাজ্যের সবুজ শিবিরের স্টেট ইনচার্জ সুখেন্দু শেখর রায় জনিয়েছেন,’ হরিয়ানা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান অশোক তানোয়ার এবং সেখানকার বাইশটি জেলার শতাধিক নেতার সঙ্গে দিল্লিতে দীর্ঘ বৈঠকের পর সে রাজ্যে দলের কার্যালয় খোলার দিন ক্ষণ ঠিক হয়েছে। বৈঠকে আগামী দিনে দলের একগুচ্ছ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তার মধ্যে রাজ্যের সব জেলায় দলীয় কার্যালয় খোলার বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেই অনুযায়ী সমস্ত ধরণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, একুশের বাংলা বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক ভোটে নির্বাচিত হয়ে তৃতীয় বারের জন্য নিজেদের সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর এরপর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের গণ্ডি ছাড়িয়ে দেশের অন্যান্য রাজ্যেও নিজেদের সংগঠনের ভিত মজবুত করতে বদ্ধপরিকর সবুজ শিবিরের নেতা নেত্রীরা। ত্রিপুরা,গোয়া,উত্তরপ্রদেশের পর এবার হরিয়ানাতেও দলীয় সংগঠন তৈরি করার কাজ জোরকদমে শুরু করে দিয়েছে জোড়াফুল শিবির। সম্প্রতি গোয়ার স্টেট ইনচার্জ করা হয়েছিল দলীয় সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে, এবং হরিয়ানার স্টেট ইনচার্জ করা হয়েছিল সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়কে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এমনিতেই কেন্দ্রের তিনটি বিতর্কিত কৃষি বিলের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা কৃষক আন্দোলনের ভাল মত আঁচ পড়েছিল এই রাজ্যে। ফলে এমতাবস্থায় হরিয়ানার শাসক দল তথা বিজেপির মাটি কিছুটা হলেও নড়বড়ে হয়েছে। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই বাজিমাত করতে চাইছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল।