দিল্লির জাহাঙ্গীরপুরীতে হিংসা ছড়ানোর ঘটনায় গ্রেফতার বাংলার দুই ছেলে, তদন্তের কাজে জেলায় উপস্থিত রাজধানী পুলিশ

60

নিজস্ব প্রতিনিধি, পূর্ব মেদিনীপুর: দিল্লির জাহাঙ্গীর পুরীতে হিংসা ছড়ানোর ঘটনায় ইতিমধ্যে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা থেকে আনসার শেখ এবং আসলাম শেখকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। এই ঘটনার সঙ্গে আর কেউ যুক্ত রয়েছে কিনা সে ব্যাপারে তদন্ত করতে এবার পূর্ব মেদিনীপুরে পৌঁছালো দিল্লি পুলিশ।

বুধবার সকালে প্রথমে তাঁরা মহিষাদল থানায় যায় এবং পরে সুতাহাটা থানায় যায়, দিল্লি পুলিশের প্রতিনিধি দল। এবং তারপর সুতাহাটা গোলাপচক গ্রামে গিয়েছেন পুলিশের ওই প্রতিনিধি দল এবং সাধারন মানুষের সঙ্গে কথোপকথন করেন তাঁরা। মূলত এই ঘটনার সঙ্গে আরও কারা জড়িত রয়েছে, কিনা সেই বিষয় তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ।

এরপর কুকড়াহাটির হিয়াৎপুর গ্রামে পৌঁছায় দিল্লি পুলিশের টিম এবং শেখ জাকিরের বাড়িতে জিজ্ঞাসাবাদ করেন দিল্লি পুলিশ। সেখান থেকে জাকিরের এক আত্মিয় বাড়িতে যায় এবং জাকিরের বন্ধুর স্ত্রী ফুলজান বিবির সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা। সেখানে অফিসাররা জানতে পারেন, সাহাপুর পার্শ্ববতী গ্রামে বিয়ে করে, মাঝে মধ্যে হিয়াৎপুরে আসত। দিল্লীতে তাঁদের বাড়ি যেত জাকির। এছাড়াও এদিন বেশ কয়েকজনকে জিঞ্জাসাবাদ করে পুলিশ। মূলত জাকিরের প্রকৃত কোথায় বাড়ি বাংলাদেশে। যেখানেই সঙ্গে কোনও কোন যোগাযোগ রয়েছে কিনা সে বিষয়ে দিল্লি পুলিশ জিঞ্জাসাবাদে প্রশ্ন তোলে। তবে জানা যায়, বাংলাদেশের সঙ্গে তাঁর কোন যোগযোগ নেই, এমনটাই জানিয়েছে জাকিরের বন্ধুর স্ত্রী।

পাশাপাশি গ্রামের মানুষকে আনসার শেখ এবং আসলাম শেখের সম্পর্কে বহু কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করে দিল্লি পুলিশ। যদিও গোটা ঘটনায় ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছে এলাকাবাসী। কারণ খুব ভালো ছেলে হিসেবেই পরিচিত ছিল এলাকায় আনসার।

হলদিয়া শিল্পাঞ্চল এলাকার বাসিন্দা আনসার। তবে আনসার এখানে খুব একটা থাকেন না বলেই, জানা যাচ্ছে। প্রতিবেশী থেকে রাজনৈতিক নেতৃত্বরা কিন্তু কোনও ভাবেই মানতে নারাজ আনসার এমন কাজ করতে পারেন বরং তাঁদের দাবি ওঁকে ফাঁসানো হয়েছে। কিন্তু যে দু জনের যোগ পাওয়া যাচ্ছে তারা যথাক্রমে শেখ সনু (রামবাগ বাড়ি, শ্বশুর বাড়ি হলদিয়ার রামনগর) শেখ আনসার (বাড়ি দোকান গোড়া, ৪১ নং জাতীয় সড়কের পাশে হলদিয়ায়)। প্রতিবেশীরা বলছেন, আনসার খুব ভালো ছেলে। এখানে যখন আসেন খুব দান – ধ্যান করেন। তবে খারাপ তেমন কিছু দেখেননি বা কাজ সমন্ধে কিছু বলেননি কোনও সময়। তবে মাঝে মাঝে স্থানীয় প্রতিবেশীদের দেখতেন নিজের মোবাইলে ছবি। সেখানে রাজনৈতিক বড় বড় নেতাদের সঙ্গে আনসারের ছবি থাকত।