অজানা জন্তুর পায়ের ছাপ, ঝাড়গ্রামে বাঘের আতঙ্কে থরহরিকম্প এলাকাবাসী!

5
kolkata news

Highlights

  • প্রায় দু’বছর পর আবারও ফিরে এল বাঘের আতঙ্ক
  • অজানা জন্তুর পায়ের ছাপ দেখে এই আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বাসিন্দাদের মনে
  • ঝাড়গ্রামের লক্ষণপুর গ্রামের চাষের জমিতে সকালে বড় বড় পায়ের ছাপ দেখাতে পান বাসিন্দারা


নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম:
প্রায় দু’বছর পর আবারও ফিরে এল লালগড়ের বাঘের আতঙ্ক। অজানা জন্তুর পায়ের ছাপ দেখে এই আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বাসিন্দাদের মনে। বনদফতর পায়ের ছাপগুলি সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ করা শুরু করেছে। তবে বনদফতর সব রকম সম্ভাবনার দিকে খতিয়ে দেখছে। রবিবার সকালে ঝাড়গ্রাম জেলার বিনপুর থানার কাঁকো অঞ্চলের লক্ষণপুর গ্রামের চাষের জমিতে সকালে বড় বড় পায়ের ছাপ দেখাতে পান বাসিন্দারা। স্থানীয় গ্রামবাসীরা মনে করছেন, যা অনেকটা বাঘের পায়ের ছাপের মতো। যেহতেু এর আগে লালগড়ে বাঘ দেখা গিয়েছিল, তাই লালগড় সংলগ্ন এই এলাকায় পায়ের ছাপ ঘিরে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

লক্ষণপুর গ্রাম সংলগ্ন জঙ্গল লাগোয়া মালাবতি, কালিয়াম, মোহনপুর, সাতবাঁকি-সহ বিভিন্ন গ্রামগুলিতে আতঙ্ক ছাড়িয়েছে। এদিন লক্ষণপুর গ্রামে ভোর বেলায় ওই পায়ের ছাপগুলি দেখা যাওয়ার পর সংলগ্ন এলাকার গ্রামের অনেক মানুষ জমে যায়। তারা বলতে শুরু করেন, এই ছাপ বাঘেরই পায়ের। গ্রামবাসীদের মতে, ছোট ছাপও রয়েছে। যা দেখে মনে করা হচ্ছে শাবক থাকতে পারে। তবে বনদফতর জানিয়েছে, ছাপ গুলি একটি জন্তুরই।

ক্যাট প্রজাতির কোনও জন্তুর ছাপ হতে পারে বলে প্রাথমিক ভাবে অনুমান। এলাকার বাসিন্দা রাজীব মুর্মু বলেন, সকাল বেলায় গ্রামের জামিতে পায়ের ছাপগুলি দেখা যায়। দেখে মনে হচ্ছে বাঘের। এর আগে লালগড়ে বাঘ বেরিয়েছিল। আমরা গ্রামবাসীরা খুবই আতঙ্কে রয়েছি। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের দুই মার্চ লালগড়ে টানা বাঘের আতঙ্ক জিইয়ে থাকার পর মেলখেড়িয়ার জঙ্গলে বনদফতরের লাগানো ট্রাপ ক্যামেরাতে ধরা পড়েছিল রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের অস্তিত্ব। লালগড়ে বাঘের হাতে মারা পড়েছিল বেশ কিছু গবাধি পশু। পরে শিকারিদের হাতে বাঘটির মৃত্যু হয়েছিল। এই ঘটনার পরেও কয়েক মাস আগে সাঁকারইলের কয়েকটি গ্রামে অজানা জন্তুর হানায় মারা পড়েছিল বেশ কিছু ভেড়া। তখনও একইভাবে বাঘের সম্ভাবনা উঠে এসেছিল। বনদফতর জন্তুটিকে ধরার জন্য টোপ দিয়ে খাঁচাও বসিয়েছিল। কিন্তু তাতে কিছু ধরা পড়েনি। এবার আবারও অজানা জন্তুর পায়ের ছাপে থরহরিকম্প গ্রামের বাসিন্দারা। এই এলাকায় বছরভর থাকে হাতির তাণ্ডব। চাষবাসের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

ঝাড়গ্রাম জেলার জঙ্গলগুলিতে রয়েছে নেকড়ে। তবে লালগড়ের মতো আবারও রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার এসে পড়ল কিনা, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। লালগড়েও বাঘের অস্তিত্ব প্রমাণের আগে পায়ের ছাপ, গবাদি পশুর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল। এদিন লক্ষণপুরে পায়ের ছাপ মেলার পর বনদফতর তা সংগ্রহ করেছে। ছাপগুলির মাপজোক করা হচ্ছে। গ্রামবাসীদের সঙ্গে বনদফতর কথা বলে জানতে চাইছে, কেউ কোনও জন্তু দেখেছে কিনা।

গ্রামবাসীদের বনদফতরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনও জন্তুর দেখা মিললে বনদফতরকে তা জানাতে। যেহেতু ঝাড়গ্রাম জেলার লালগড়ে বাঘের দেখা মিলেছিল, তাই বনদফতর সব রকম সম্ভাবনার দিক খতিয়ে দেখছে এবং নজরদারি তীব্র করছে। পাশাপাশি গ্রামবাসীদের সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। এই বিষয়ে ঝাড়গ্রাম বনবিভাগের ডিএফও বাসবরাজ হলৈচি বলেন, লক্ষণপুর গ্রামে বেশ কিছু পায়ের ছাপ দেখা গিয়েছে। সেগুলি সংগ্রহ করে, মাপঝোক করা হচ্ছে। বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে কোন ধরনের প্রাণীর পায়ের ছাপ এগুলি। আমরা সব ধরনের সম্ভাবনার দিক খতিয়ে দেখছি। গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে।