পণবন্দির জেরে গুলিতে মৃত বাবা, গণপিটুনিতে মা, একরত্তিকে আপন করল যোগীর পুলিশ

18
national news

Highlights

  • খুদে খুদে পায়ে সদ্য দাঁড়াতে শেখা সেই শিশুকেই এবার আপন করে নিল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ
  • শিশুটি যাতে ভাল শিক্ষা পায় এবং ভাল মানুষ হয় তা নিশ্চিত করব আমরা।
  • একদিন ওকে বড় অফিসার বানাবো

মহানগর ওয়েবডেস্ক: বয়স মাত্র ১ বছর। কঠিন পৃথিবীর আরও কঠিন সমাজের ভয়াবহতা বোঝার মতো বয়স এখনও হয়নি তার। এই কিছুদিন আগেও বাবা মায়ের কোলে পিঠে বড় হচ্ছিল ছোট্ট ফুটফুটে শিশুকন্যা। হঠাৎ যেন সব থেমে গিয়েছে। তবে সে জানে না তার অবলম্বনের সেই মানুষ দুটি আর নেই। একজন মারা পড়েছে পুলিশের গুলিতে। আর দ্বিতীয় জনকে মেরেছে উত্তেজিত জনতা। অসহায়, খুদে খুদে পায়ে সদ্য দাঁড়াতে শেখা সেই শিশুকেই এবার আপন করে নিল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ।

ঘটনা উত্তরপ্রদেশের ফারুকাবাদ। সম্প্রতি সেখানে স্থানীয় বাচ্চাদের মেয়ের জন্মদিনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল সুভাষ বাথাম নামে এক যুবক। এরপর ২৩ শিশুকে পণবন্দি করে সে। এতগুলি শিশুকে উদ্ধার করতে মাঠে নামে এটিএস, এনএসজি, পুলিশ। মাঝরাতেই বিশেষ কমান্ডো বাহিনীর একটি দলকে ফারুখাবাদের ওই গ্রামে পাঠানো হয়। সব মিলিয়ে টানটান উত্তেজনায় দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা কাটার পর উদ্ধার করা হয় সব শিশুকে। পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় অভিযুক্তের। এর কিছু পরেই জানা যায়, সুভাষ বাথামের স্ত্রীকেও পিটিয়ে মেরে ফেলেছে স্থানীয় জনতা। সবমিলিয়ে জন্মদিনের রাতেই অনাথ হয় ছোট্ট শিশুকন্যা। দুশ্চিন্তা বাড়ে ওই শিশুকে নিয়ে। কোনও আত্মীয় পরিজন শিশুটির দায়িত্ব নিতে রাজি হয় না। এমনকি শিশুটির মৃত বাবা মায়ের দেহ নিতেও অস্বীকার করে পরিজনরা। এমন পরিস্থিতিতেই একরত্তির প্রতি মানবিক হয়ে উঠল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। শিশুটিকে দত্তক নিল তারা।

পুলিশের তরফে আই জি রেঞ্জ(কানপুর) মোহিত আগরওয়াল সাংবাদিকদের জানান, ‘শিশুটি যাতে ভাল শিক্ষা পায় এবং ভাল মানুষ হয় তা নিশ্চিত করব আমরা। একদিন ওকে বড় অফিসার বানাবো। শিশুটির মাত্র ১ বছর বয়েস। ওর নাম গৌরি। ও বড় হয়ে উঠবে আমাদের কাছেই, আমাদের দায়িত্বে।’ আপাতত পুলিশ কাকুদের কোলে পিঠেই বড় হচ্ছে ছোট্ট গৌরি। পুলিশের এহেন মানবিক উদ্যোগকে স্যালুট জানিয়েছে নেটিজেনরাও।