সিপিএমের রক্তদান শিবিরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর, অভিযোগ তৃণমূলের দিকে

6
kolkata news

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: বাম নেতা জীবন দাসের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে শনিবার সকালে হাওড়ার বাঁকড়ায় রক্তদান শিবিরের আয়োজন করেছিল সিপিএম। অভিযোগ, সেখানে শাসকদলের পক্ষ থেকে রক্তদান শিবিরে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করা হয়। যেখানে শিবির চলছিল, তার ছাদে বোমা ছোড়া হয়। খবর পেয়ে ছুটে যায় বাঁকড়া ফাঁড়ি ও ডোমজুড়ে থানার পুলিশ। অভিযোগ অস্বীকার করেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। এদিকে, সিপিএমের রক্তদান শিবিরে তৃণমূলের হামলার অভিযোগ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ভাঙচুর, বোমা নিক্ষেপ, মারধরের অভিযোগ উঠেছে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে। বাঁকড়া ২ নম্বর পঞ্চায়েতের কবরপাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ, পঞ্চায়েতের উপপ্রধানের নেতৃত্বে এই হামলা হয়েছে।

এই ব্যাপারে ডোমজুড় এলাকার প্রাক্তন সিপিএম বিধায়ক মোহন্ত চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তাঁদের  রক্তদান শিবির চলছিল। সকাল থেকে এলাকায় উত্তেজনা ছিল। তাঁরা আশঙ্কা করেছিলেন, এমন একটা হবে। প্রায় সাড়ে ১২টা নাগাদ হঠাৎই দুষ্কৃতীরা ভেতরে ঢুকে ব্যাপক ইঁট ছোড়ে, চেয়ারগুলো আছাড় মেরে ভাঙে। ইট দিয়ে জানলা ভেঙে দেয়। এছাড়াও শহিদ বেদি উল্টে ফেলে দেওয়া হয়। ছাদে একটা বোমা ছোড়ে। যদিও সেটা ফাটেনি। আমাদের কোনওরকম রাজনৈতিক কাজ করতে দিতে চাইছে না। পুলিশের ভূমিকা খুবই দুঃখজনক, ন্যক্কারজনক। এর আগেও বহু ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু সব ক্ষেত্রেই পুলিশ নীরব দর্শকের ভুমিকা পালন করেছে। এই রক্তদানের ব্যাপারে পুলিশের কাছে জানানো হয়েছিল বলে দাবি তাঁর।

এদিনের ঘটনা পুলিশের মদতেই ঘটেছে বলে তাঁর অভিযোগ। সিপিএমের হাওড়া জেলা সম্পাদক বিপ্লব মজুমদার জানিয়েছেন, ২০১১ সালে রাজ্যে তৃণমূল সরকার আসার পর এই পার্টি অফিসে হামলা চালানো হয়। অফিসটি চালাতে দেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল এই পার্টি অফিসটি। ২-৩ দিন আগে এই অফিসটি আবারও খোলা হয়। করোনা পরিস্থিতে যে রক্তের আকাল চলছে, তা মেটানোর জন্য নেওয়া হয়েছিল এই রক্তদান কর্মসূচি। তাঁদের রক্তদান শিবিরে হামলার ঘটনার জেরে এদিন জেলায় সর্বত্র বিক্ষোভ হবে বলে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, এই ঘটনায় অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত বাঁকড়া ২ নম্বরের তৃণমূল উপপ্রধান। তৃণমূলের পাল্টা বক্তব্য, আমরা বরং ওদের সহযোগিতা করেছি। এমনকী, আমাদের কর্মী মিটিং ছিল আজ। আমরা যখন জানতে পারি, ওদের রক্তদান শিবির আছে, তারজন্য আমাদের কর্মী মিটিং পিছিয়ে দিয়েছি একদিন। এই ঘটনা একদম মিথ্যা, ভিত্তিহীন। ওরা মাইকে অপ্রীতিকর কথা বলেছিল। সেই কারণে গুণ্ডাবাহিনী রক্তদাতাদের বাধা দিয়েছে।