ইস্তফা উপাচার্যকে দিতেই হবে, কপালে ব্যান্ডেজ নিয়েই বিপ্লবের মশাল জ্বাললেন সাহসিনী ঐশী

7

Highlights

  • হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর, মাথা ভর্তি ব্যান্ডেজ
  • আমার রক্ত ঝরানোর অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮ হাজারেরও বেশি পড়ুয়ার রক্ত ঝরানো
  • ইস্তফা উপাচার্যকে দিতেই হবে

মহানগর ওয়েবডেস্ক: হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর, মাথা ভর্তি ব্যান্ডেজ। কপালের একটা অংশ তখনও কালো হয়ে ফুলে রয়েছে। দেখে বুঝতে বাকি থাকে না শরীরটা তখনও বেশ দুর্বল। ওই অবস্থাতেই জেএনইউ ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিপ্লবের ডাক দিলেন দূর্গাপুরের সাহসিনী তথা জেএনইউ ছাত্রসংসদের প্রেসিডেন্ট ঐশী ঘোষ। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ‘ক্যাম্পাসে হিংসা উপাচার্যের জন্যই হয়েছে। ওনার ইস্তফা দেওয়া উচিত।’ এরপরই জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার রক্ত ঝরানোর অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮ হাজারেরও বেশি পড়ুয়ার রক্ত ঝরানো। যারা আমায় নির্বাচিত করেছে। ইস্তফা উপাচার্যকে দিতেই হবে।’

সোমবার সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসে বসে গতকালের ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ঐশী বলেন, ‘ক্যাম্পাসে অজ্ঞাত পরিচয় যুবকের ভিড় দেখে আমরা পুলিশকে জানিয়েছিলাম, কিন্তু পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। জেএনইউ-র উপাচার্য জগদেশ কুমারের বিরুদ্ধেও তোপ দেগেছেন ঐশী। তিনি বলেন, ‘পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল। ওঁরা বলেছিলেন, সব ঠিক আছে। আমরা ওদের সরিয়ে দিয়েছি। কিন্তু তার পরেই এই ঘটনা ঘটে।’ পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলে স্পষ্ট অভিযোগ তাঁর। তবে এই ঘটনার তিনি যে ভেঙে পড়ার পাত্র নন তা বুঝিয়ে দিয়ে গলার স্বর আরও দৃঢ় করে ঐশী বলেন, ‘সর্বদা এরা জেএনইউকে টার্গেট করছে। আমরাও গর্বিত যে আমরা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। হিন্দুত্ববাদী গুন্ডাদের বিরুদ্ধে এই লড়াই আগামী দিনেও আমরা চালিয়ে যাব।’

এর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও আরএসএস ঘনিষ্ট অধ্যাপকদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে এদিন ঐশীর দাবি, ‘আরএসএস ঘনিষ্ট অধ্যাপকরাই রবিবার রাতে পড়ুয়াদের উপর হামলা চালাতে মদত যুগিয়েছিল। পড়ুয়াদের সংঘবদ্ধ আন্দোলনকে ভাঙতেই এই চক্রান্ত।’ তাঁর আরও দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা রক্ষীদের সঙ্গে দুষ্কৃতীদের আঁতাত রয়েছে। এরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে জ্বলে ওঠেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘ক্যাম্পাসে হিংসা ছড়িয়েছে উপাচার্যের জন্যই। ওঁর ইস্তফা দেওয়া উচিত। শিক্ষা মন্ত্রকের উচিত ওঁকে সরিয়ে দেওয়া।’ পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, ‘আমার রক্ত ঝরানোর অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮ হাজারেরও বেশি পড়ুয়ার রক্ত ঝরানো। যারা আমায় নির্বাচিত করেছে। ইস্তফা উপাচার্যকে দিতেই হবে।’

উল্লেখ্য, সোমবার সকালে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে টুইটারে মুখ খোলেন জেএনইউর উপাচার্য এম জগদেশ কুমার। এই ঘটনার জন্য পড়ুয়াদের উপরই দোষ চাপিয়ে তিনি লেখেন, ‘আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের কয়েকজন হিংসার রাস্তা বেছে নেওয়াতেই এই ঘটনা ঘটেছে জেএনইউতে। যারা আন্দোলনে অংশ নেননি তাদের পড়াশুনাতেও ব্যাঘাত করা হয়েছে। হাজার হাজার পড়ুয়াকে নাম নথিভুক্তিকরণে বাধা দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজকর্ম অচল করে দেওয়াই ওদের উদ্দেশ্য। এটা এক ধরনের গুণ্ডামি। কাউকে রেহাত করা হবে না। কড়া পদক্ষেপ নেব।’ যদিও ইতিমধ্যেই উপাচার্যের অপসারণ চেয়ে দেশের রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি পাঠিয়েছে জেএনইউর অধ্যাপক সংগঠন।