মদ ছেড়ে দাবার নেশায় মজে জুয়াড়ির গ্রাম!

    39

    নিজস্ব প্রতিনিধি: এক সময় এ গ্রামের সবাই দিনভর চুর হয়ে থাকতেন মদের নেশায়। পুরুষদের মদের নেশা ঘোঁচাতে চেষ্টার কসুর করেননি বাড়ির মহিলারা। তার পরেও সন্ধে হলেই মদের গন্ধে ভারী হয়ে ওঠে গ্রামের বাতাস। মাতাল গ্রাম এড়িয়ে চলতেন আশপাশের গ্রামের বাসিন্দারা।

    এহেন মাতাল গ্রামের বদনাম ঘুঁচিয়েছেন এক যুবক। কেরলের ওই যুবকের নাম উন্নিকৃষ্ণন। আর যে মাতাল গ্রামের ভোল বদলে দিয়েছেন তিনি, তার নাম মারোত্তিচাল। এক সময় সন্ধে নামলেই মারোত্তিচালের পুরুষরা বুঁদ হয়ে থাকতেন মদের নেশায়। নেশাকে ঘিরে ঘরে ঘরে নিত্য অশান্তি। গ্রামের দুর্দশা ঘোঁচাতে উদ্যোগী হন চায়ের দোকানদার উন্নিকৃষ্ণন। ছোটবেলায় দাবা খেলা শিখেছিলেন তিনি। গ্রামবাসীদের মদের নেশা ঘোঁচাতে সেই দাবাকেই হাতিয়ার করেন ওই যুবক। মাতাল পুরুষদের ধরে ধরে দাবা খেলা শেখান। মদ্যপানের ক্ষতিকারক দিক সম্পর্কে সচেতন করেন গ্রামবাসীদের। ফলও ফলে হাতে নাতে।

    প্রথম প্রথম এক চা দোকানদারের কথা কেউ না শুনলেও, শেষে শুনতে শুরু করেন। মদ ছেড়ে গ্রামবাসীরা মজেন দাবার নেশায়। উন্নকৃষ্ণনের তালিমের ফলে গ্রামের প্রতিটি পুরুষই এখন পাকা দাবাড়ু। পুরুষদের কাছ থেকে দাবা খেলা শিখেছেন এ গাঁয়ের অনেক মেয়েই। সূর্য ডোবার পরে আঁধার ঘনালে এক সময় যে গাঁয়ে শোনা যেত খিস্তিখেউড়, এখন সেখানেই রাজা-মন্ত্রী-নৌকা-ঘোড়ার চালের আওয়াজ। অট্টহাসির সঙ্গে দিনের বেলায়ও প্রায়ই শোনা যায় কিস্তিমাতের চিৎকার।