Home Bengal জলপাইগুড়িতে ভয়াবহ ঘুর্ণঝড়, মৃত ৫, আহত শতাধিক, রাতেই দুর্গতদের পাশে মমতা, ঘটনাস্থলে রাজ্যপাল, শুভেন্দু পৌঁছচ্ছেন

জলপাইগুড়িতে ভয়াবহ ঘুর্ণঝড়, মৃত ৫, আহত শতাধিক, রাতেই দুর্গতদের পাশে মমতা, ঘটনাস্থলে রাজ্যপাল, শুভেন্দু পৌঁছচ্ছেন

by Mahanagar Desk
69 views

মহানগর ডেস্ক : রবিবার আচমকা কয়েক মিনিটের ঘুর্ণিঝঠে লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছে জলপাইগুড়ি শহর, ময়নাগুড়ি, ধূপগুড়ির বিস্তীর্ণ এলাকা। পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত শতাধিক হাসপাতালে ভর্তি। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। গতকাল রাতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্গতদের পাশে গুয় দাঁড়ান। রাত আড়াইটে পর্যন্ত তিনি দুর্গতদের সঙ্গে কথা বলেন, হাসপাতালে দেখতে যান। ক্ষতিগ্রস্তদের সব রকমের সরকারি সহযোগিতার আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিকে সোমবার সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তিনি দুর্গতদের সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দেন। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ঘটনাস্থলে যান। শুভেন্দু বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী চার্টার্ড বিমানে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। তৃণমূল ইলেক্টোরাল বন্ড থেকে অনেক টাকা পেয়েছে, তা দিয়ে এসব হচ্ছে। মাল-এ যখন প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়েছিল তখন মুখ্যমন্ত্রী কোথায় ছিলেন? উনি প্রাকৃতিক বিপর্যয় নিয়ে রাজনীতি করছেন।” প্রসঙ্গত, শুভেন্দু অধিকারী হয়তো ভুলে গিয়েছেন, ইলেক্টোরাল বন্ডে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল টাকা পেলেও বিজেপি সবচেয়ে বেশি টাকা পেয়েছে, তাই শুভেন্দু অধিকারীর সব ভেবে কথা বলা উচি, এই মন্তব্য করেন তৃণমূল নেতা শান্তনু সেন। মুখ্যমন্ত্রী গতকাল রাতেই ঘটনাস্থল থেকে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির খবর জানান। এই ঘুর্ণিঝড়ে যে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের মধ্যে দু’জন জলপাইগুড়ি শহরের বাসিন্দা। এক জন গোসালা মোড়ে এবং অন্য জন সেন পাড়ায় থাকতেন। আরও দু’জন ময়নাগুড়ির বার্নিশ এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। সকলের বাড়িতেই রবিবার রাতে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে পাশে থাকার আশ্বাস তিনি দেন। ঝড়ের তাণ্ডবে বহু মানুষ জখম হয়েছেন। আহতের সংখ্যা শতাধিক। তাঁরা কেউ কেউ জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। কয়েক জনকে ভর্তি করানো হয়েছে শিলিগুড়ির হাসপাতালে। রবিবার রাতেই হাসপাতালে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

রবিবার আচমকা ঝড়বৃষ্টিতে লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছে জলপাইগুড়ি শহর, ময়নাগুড়ি, ধূপগুড়ির বিস্তীর্ণ এলাকা। পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে রাতে জানান মুখ্যমন্ত্রী। যে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের মধ্যে দু’জন জলপাইগুড়ি শহরের বাসিন্দা। এক জন গোসালা মোড়ে এবং অন্য জন সেন পাড়ায় থাকতেন। আরও দু’জন ময়নাগুড়ির বার্নিশ এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। সকলের বাড়িতেই রাতে গিয়েছিলেন মমতা। তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে পাশে থাকার আশ্বাস দেন। ঝড়ের তাণ্ডবে বহু মানুষ জখম হয়েছেন। আহতের সংখ্যা শতাধিক। তাঁরা কেউ কেউ জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। কয়েক জনকে ভর্তি করানো হয়েছে শিলিগুড়ির হাসপাতালে। রাতেই হাসপাতালে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে দেখা করেন মমতা।

রবিবার রাতে বাগডোগরা বিমানবন্দরে নেমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘রাজ্য সরকার পাশে আছে। এখন যেহেতু এমসিসি চলছে, তাই প্রশাসন যা করার করবে। একটা বাচ্চাকে নেওটিয়া হাসপাতালে আনা হচ্ছে, ওটা কাল বিকেলে অভিষেক এসে দেখে নেবে। প্রশাসন যা করার করবে। সবটা এখানে বলছি না।’’

গতকাল রাতেই মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, পরিস্থিতির মোকাবিলার জন্য প্রশাসন যা করার করছে। ত্রাণ সরবরাহের কাজ চলছে। এ ছাড়া, জেলা ও ব্লক প্রশাসন, পুলিশ, ডিএমজি এবং কুইক রেসপন্স টিম বিপর্যয় মোকাবিলায় কাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপদ এলাকায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রাত জেগে সেই কাজের তদারকিও করেছেন মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং। রাত আড়াইটেয় ঘটনাস্থল থেকে ফিরেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

জলপাইগুড়িতে সোমবার সকালে যাওয়ার আগে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘জলপাইগুড়িতে প্রায় ৮০০ বাড়ি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। বাড়িগুলি টিন দিয়ে তৈরি ছিল। এই সময়ে সরকারের উচিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। কারণ বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে সরকার আদর্শ আচরণবিধির আওতায় পড়ে না। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাও জলপাইগুড়িতে কাজ করছে। তাদের বেশি করে দায়িত্ব নিতে হবে। আমরা রাজনৈতিক কর্মী বা জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচনী বিধির কারণে বেশি কিছু করতে পারব না। কেবল পাশে থাকতে পারি। তাই সংগঠনগুলিকে দায়িত্ব নিতে হবে। আশা করব অন্য রাজনৈতিক দল এবং প্রশাসন রাজনীতি দূরে রেখে কাজ করবে।’’ বিকেলে জলপাইগুড়িতে পৌঁছে যাবেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে দাঁড়েতে সমস্ত সরকারি কর্মী ও দলের নেতৃত্বকে নির্দেশ দিয়েছেন।

সোমবার সকালেও আবহাওয়া প্রতিকূল জলপাইগুড়িতে। উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বইছে। আকাশের মুখও ভার। মাঝেমাঝে মেঘ ডাকছে। আবহাওয়া দফতর থেকে উত্তরবঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে উত্তরের জেলাগুলিতে।

রবিবার দুপুর তিনটের কিছু পড়ে ৪ মিনিটের এই ঘুর্ণিঝড়ের তান্ডবে সমগ্র এলাকা ছারখার হয়ে গিয়েছে জলপাইগুড়ি শহর, ময়নাগুড়ি, ধূপগুড়ির বিস্তীর্ণ এলাকা। এই সব এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা নেই, নেই মাথাগোজার স্থান। সরকারের তরফে চিড়ে, মুড়ি, গুড় দেওয়া হয়েছে।

You may also like

Mahanagar bengali news

Copyright (C) Mahanagar24X7 2024 All Rights Reserved