Home Bengal সন্দেশখালিতে জনরোষের মুখে পড়ে পালালো তৃণমূল নেতা-কর্মীরা, দীর্ঘ অত্যাচারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের প্রতিরোধ

সন্দেশখালিতে জনরোষের মুখে পড়ে পালালো তৃণমূল নেতা-কর্মীরা, দীর্ঘ অত্যাচারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের প্রতিরোধ

by Mahanagar Desk
37 views

সন্দেশখালিতে উলটপুরাণ। ৩৩ দিন যাবৎ বেপাত্তা শেখ শাহজাহান। গ্রামবাসীদের রোষের মুখে সেঝ শাহজাহানের ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা শিবু হাজরা। পুড়িয়ে দেওয়া হল শিবুর মৎস্য ভেড়ির অফিস আগুন । সন্দেশখালির মানুষের প্রতিরোঢের মুখে পিছু হঠল তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা। পলিমাটি পেরিয়ে নদীতে ঝাঁপিয়ে লঞ্চে করে পালিয়ে প্রাণ বাঁচালেন সন্দেশখালির তৃণমূল নেতৃত্ব। গ্রামবাসীর দাবি উত্তম সর্দার, শিবু হাজরার গ্রেফতার চাই। উত্তম সর্দারের বাড়ি বুধবার রাতে গ্রামবাসীরা ঘেরাও করে। পুলিশ গিয়ে উত্তম সর্দারকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। উত্তমের অভিযোগ, “বিজেপি ও সিপিএমের দুষ্কৃতীরা হামলা চালিয়েছে।”

গত ৩৩ দিন ধরে সন্দেশখালির বেতাজ বাদশা শেখ শাহজাহান উধাও। সন্দেশখালিতে ইডি ও সংবাদকর্মীদের উপর হামলাকাণ্ডের পর রাজ্য-রাজনীতি উত্তাল হলেও এই নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন তাকে খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ ? করা তাকে আড়াল করে রেখেছে ? তা নিয়ে বিরোধীরা রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলের দিকে আঙ্গুল তুলছেন। বিরোধীরা প্রথম থেকেই বলছে বাংলাদেশে শেখ শাহজাহান পালিয়েছেন। তবে ইডি, রাজ্য পুলিশ নীরব থাকলেও এবার নীরবতা ভেঙেছে সন্দেশখালির নিপীড়িত নামোসের। বছরের পর বছর যারা নিজেদের জমি মাছের ভেড়ির জন্য শেখ শাহজাহানের ভয়ে তার ঘনিষ্ঠদের হাতে দিয়ে, টাকা না পেয়ে চুপ করেছিলেন তারা বুধবার সরব হয়েছে। জোর করে বিঘার পর বিঘা ভেড়ি দখলের অভিযোগ উঠেছিল শেখ শাহজাহান ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে । সম্প্রতি সেই বঞ্চিত মানুষগুলি শেখ শাহজাহান ফেরার হয়ে যাওয়ার পর, নির্ভয়ে সরব হয়েছেন। অত্যাচারের অভিযোগে মুখ খুলছে সন্দেশখালি। ৩৩ দিনে উলটপূরাণ, গ্রামবাসীদের প্রতিরোধের মুখে নৌকোয় চেপে পালাল তৃণমূল! ঠিক এই অবস্থা হয়েছিল শেখ শাহজাহানের বাড়িতে ইডির তল্লাশিতে আসার পর। সেদিন ইডি অফিসারদের তারা করে নৌকো করে সন্দেশখালি পালাতে বাধ্য করে শেখ শাহজাহানের ঘনিষ্ঠরা।

বুধবার সন্দেশখালির গ্রামবাসীরা লাঠি-বাঁশ হাতে রাস্তায় মারমূখী হয়ে রাস্তায় নাম। মুরুষ-মহিলাদের এই প্রতিরোধের মুখে পড়ে তৃণমূল কর্মীরা পলিমাটি মাড়িয়ে নদীর জলে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণে বাঁচে। কেউ সাঁতরে গিয়ে লঞ্চে ওঠার চেষ্টা করে।গ্রামবাসীদের একাংশের প্রতিরোধে এভাবেই পিছু হটল তৃণমূল কর্মী ও সমর্থকরা। গ্রামবাসীরা বলেন,দূর হঠো,দূর হঠো।আমরা শান্তিপ্রিয় মানুষ, শান্তি চাই, শান্তি চাই।যার জেরে প্রশ্ন উঠে গেল, শেখ শাহজাহান বেপাত্তা হতেই, কি তাঁর গড়ে গ্রামবাসীদের একাংশের তাড়া খেয়ে পালাল তৃণমূল? বেতাজ বাদশা উধাও হতেই কি সন্দেশখালিতে আলগা হতে শুরু করেছে তৃণমূলের ভিত?

আক্রান্ত তৃণমূলনেতা-কর্মীদের বক্তব্য, আমরা মিছিল করে খেয়ায় উঠেও গেছি, কিছু দৃষ্কৃতী, যাদের মধ্যে বিজেপি, সিপিএম আছে, তারা এসে আমাদের কাচের বোতল ইট, কিছু মহিলাও ছিল, তারা লাঠিসোটা এনে, আমাদেরকে বোট আটকে দিয়ে আমাদের মারধর করেছে, ১৫-২০ জনকে। কিছু লোক জলে ঝাপিয়েও চলে এসেছে। আমাদের ঘাটে দাঁড় করিয়ে মারছে। বাস্তব কিন্তু অন্য কথা বলছে। বুধবার তৃণমূল অস্ত্র নিয়ে মিছিল করলেই গ্রামবাসীরা প্রতিরোধ করে। এর মধ্যে বিজেপি, সিপিএম-এর কোনও যোগ নেই, পুরোটাই সাধারণ মানুষের প্রতিরোধ।

এই প্রসিঙে বিজেপি নেত্রী অর্চনা মজুমদার বলেন, সন্দেশখালিতে যে ঘটনাটা ঘটল সেটা হল গণরোষের বহিঃপ্রকাশ। মুহূর্তের মধ্য়ে প্রায় কয়েক হাজার লোক রাস্তায় এসে যেভাবে প্রতিরোধ করেছে তাতে বলা যায়, সন্দেশখালি জেগে উঠেছে। তৃণমূলের এই শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেছে।

এই ঘটনায় সিপিএম নেতা তন্ময় ভট্টাচার্য বলেন, “তৃণমূলের বিরুদ্ধে সন্দেশখালিতে প্রতিরোধে তৃণমূল পালিয়েছে। এবার রাজ্য থেকে তৃণমূলকে পালতে ববে। তৃণমূলের শেষের শুরু।”

You may also like

Mahanagar bengali news

Copyright (C) Mahanagar24X7 2024 All Rights Reserved