অনুশীলনের ছুতোয় যৌন হেনস্থা! নামী সাঁতার কোচের ‘কীর্তি’ ফাঁস ‘সাহসিনী’ বাঙালি কিশোরীর

443
kolkata bengali news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: স্বপ্ন ছিল দেশের সেরা সাঁতারু হওয়ার। সেই কারণেই প্রশিক্ষকের পরামর্শে বাংলা ছেড়ে গোয়ায় পাড়ি দিয়েছিলেন রিষড়ার বাঙালি কিশোরি। মেয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে আগুপিছু ভাবেননি পেশায় গারিচালক বাবাও। নিজের রুজিরুটির উৎস চারচাকাটি বেচে দিয়ে সেই অর্থেই মেয়েকে নিয়ে গিয়েছিলেন গোয়ায়। কিন্তু যে কোচের ইচ্ছায় গোয়ায় আসা, সেই নামী সাঁতার প্রশিক্ষকই যে এতটা নিচে নামবেন, সেটা বোধহয় আঁচ করতে পারেননি কেউ।

দিনের পর দিন বছর ষোলোর ওই কিশোরীকে অনুশীলন করানোর অছিলায় তাঁর শ্লীলতাহানি করে গিয়েছেন ওই কোচ। পাশাপাশি, হুমকি, যদি এই বিষয়ে কাউকে জানানো হয়, তাহলে সাঁতারের কেরিয়ার শেষ। ফলে এতদিন মুখ বুঝেই সব সহ্য করেছিল ওই ষোড়শী। কিন্তু একটা সময় পেরিয়ে যায় সব সহ্যের সীমা। কিন্তু প্রভাবশালী কোচের বিরুদ্ধে সোজাসুজি অভিযোগ করলে তা কেউই শুনতেন না। তাই দরকার ছিল প্রমাণের। আর সেই কাজেই অসামান্য সাহসিকতা ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিল ওই নির্যাতিতা।

একদিন নিজের ঘরে টেবিলে মোবাইল লুকিয়ে রেখে ভিডিও রেকর্ডিং চালু করে দেয় সে। প্রশিক্ষক ঘরে তাঁর ঘরে এসে পায়ে লাগা চোট দেখার অছিলায় বলপূর্বক কিশোরীর গোপনাঙ্গ স্পর্শ করে। বারবার বাধা দেওয়ার চেষ্টাও করে উঠতি ওই কিশোরী। কিন্তু তাতে লাভের লাভ সেইভাবে কিছু হয়নি। পুরো ঘটনাটাই রেকর্ড হয় গোপন মোবাইল ক্যামেরায়।

এরপর বুধবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই ভিডিওটি প্রকাশ করে দেয় ওই উদীয়মান সাঁতারু। সঙ্গে আরেকটি ভিডিও বার্তায় ওই কিশোরী জানায়, ‘গোয়ায় আসার পর থেকেই স্যার আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করছিলেন। আমি প্রতিবাদ জানালে বলতেন, কাউকে বলবে না। তোমার ভবিষ্যৎ রয়েছে। আমি ভয়ে কাউকে কিছু বলতাম না। কিন্তু, এই নোংরামি আমার পক্ষে আর সহ্য করা সম্ভব হচ্ছিল না। সে কারণেই সব কিছু ফাঁস করার সিদ্ধান্ত নিই। এখন আমি সাহায্য চাইছি।’

মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় ওই ভিডিওটি। সকলেই ওই ‘স্যার’-এর শাস্তির দাবি তোলেন। এরপর রিষড়া থানায় গিয়ে ওই প্রভাবশালী কোচের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে চান কিশোরীর বাবা। কিন্তু প্রথমে রিষড়া থানা থেকে বলা হয় যেহেতু ঘটনাটি গোয়ার, তাই অভিযোগও গোয়ায় গিয়ে জানাতে হবে। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওটি ভাইরাল হতে চন্দননগর কমিশনারেটের পক্ষ থেকে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ওই কিশোরীর বাড়ি গিয়ে অভিযোগ নেওয়া হয়।