প্রজাতন্ত্র দিবসে হিংসার ঘটনার সঙ্গে টুলকিটের কি সম্পর্ক ? দিশার জামিন প্রসঙ্গে প্রশ্ন আদালতের

35

মহানগর ডেস্ক: গ্রেটা থুনবার্গের ‘টুলকিট’ তৈরির পিছনে হাত রয়েছে দিশা রবির, এই অভিযোগ তুলে গত ১৩ই ফেব্রুয়ারি তাকে গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশ। এদিন দিশাকে আদালতে তোলা হলে তার জামিনের জন্য আবেদন করেন তার আইনজীবী সিদ্ধার্থ আগারওয়াল। যদিও শেষ পর্যন্ত দিশার জামিনের আবেদন নাকচ করে দেয় আদালত। আগামী মঙ্গলবার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন দিল্লিতে হিংসার ঘটনার সঙ্গে ওই ‘টুলকিটের’ যোগসূত্র রয়েছে বলে এদিন আদালতে দাবি করে দিল্লি পুলিশ। এরপরেই বিচারপতি ধর্মেন্দ্র রানার পাল্টা প্রশ্ন, ‘যদি যোগসূত্র থেকেই থাকে তাহলে তার প্রমান কোথায় ? আদেও এর কোনও প্রমান আছে, নাকি সবটা অনুমানের উপরেই দাঁড়িয়ে আছে ?’ উত্তরে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ওই টুলকিটে এমন কিছু লিঙ্ক আছে যা দেশের আইনশৃঙ্খলাকে প্রশ্ন চিহ্নের মুখে ফেলে দিতে পারে।

এরপর বিচারপতি প্রশ্ন করেন, একটি টুলকিট শেয়ার করে কিভাবে দেশদ্রোহিতার মতো গুরুতর অপরাধ করলেন দিশা ? জবাবে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, এটি কখনোই একটি সামান্য টুলকিট নয়, এর সাথে বহু ব্যক্তি জড়িয়ে আছেন। এবং তাঁরা প্রত্যেকেই খালিস্তানি আন্দোলন সম্পর্কে সচেতন। ঘটনার তদন্ত চলছে, এখনও পর্যন্ত সাত জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে আদালতে জানায় দিল্লি পুলিশ।

এরপরেই পুলিশের অভিযোগ, দিশার সঙ্গে খালিস্তানি সংগঠন ‘পোয়েটিক জাস্টিস ফাউন্ডেশনের’ অন্যতম প্রধান মো ধালিওয়ালের যোগাযোগ রয়েছে। ধালিওয়ালের বিরুদ্ধে দেশবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করে দিল্লি পুলিশ। পুলিশের তরফ থেকে বলা হয়, ধালিওয়ালা কে সবাই চেনেন। তাঁর সঙ্গে দেখা করার কি উদ্দেশ্য থাকতে পারে ? এরপরেই বিচারপতি বলেন, ‘না আমি ধালিওয়ালকে চিনি না। তাছাড়া কেউ যদি দুই অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করেন, তাহেল কিভাবে প্রমান হয় যে তার উদ্দেশ্য খারাপ ছিল ? তারা দেশদ্রোহিতার ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে?’

এরপরেই বিচারপতি ধর্মেন্দ্র রানা প্রশ্ন তোলেন, দিল্লিতে হিংসার ঘটনার সঙ্গে দিশা রবির কী যোগ রয়েছে ? টুলকিটে আসলে কি রয়েছে তা আদালতে দেখানোর জন্য দিল্লি পুলিশের প্রতিনিধি তথা সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজুকে নির্দেশ দেন বিচারপতি। এই টুলকিটের দ্বারা কিভাবে হিংসায় মদত দেওয়া হয়েছে তাও প্রমান করতে বলেন তিনি।

এদিকে দিশার আইনজীবী বারংবার দিশার জামিনের জন্য আদালতে আবেদন করেন। দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, তদন্তে মোটেই সহযোগিতা করেছেনা দিশা। দিশার থেকে প্রাপ্ত পেনড্রাইভ, মোবাইল, হার্ডডিস্ক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে অনেক কিছুই ডিলিট করে দিয়েছে দিশা। এই অবস্থায় তাকে যাতে জামিন না দেওয়া হয়, তার জন্য সওয়াল করা হয় দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে। আদালত সব দিক বিবেচনা করে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত তাকে পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। টুলকিট মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী মঙ্গলবার হবে বলে জানিয়েছে আদালত।