স্যানিটাইজারে ১৮% জিএসটি বসানোর সিদ্ধান্ত রাজ্য সমর্থন করল কীভাবে? প্রশ্ন সুজনের

5
kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: করোনা রোধে প্রথম থেকেই বারবার হাত ধোয়া ও পরিচ্ছন্নতার ওপর জোর দিয়েছেন চিকিৎসকরা। হাত ধোয়ার অন্যতম উপকরণ সাবান ও স্যানিটাইজার। সম্প্রতি কেন্দ্রের তরফে স্যানিটাইজার এর ওপর ১৮ শতাংশ জিএসটি চাপানো হয়েছে। এই অতিমারী পরিস্থিতে কেন্দ্রের  ‘স্বেচ্ছাচারিতার’ বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিলেন পরিষদীয় দলের নেতা সুজন চক্রবর্তী। ওই চিঠিতে দিল্লির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আহ্বান জানান তিনি। এই চিঠির একটি প্রতিলিপি মুখ্যসচিব রাজীব সিনহাকেও পাঠানো হয়।

এই আপৎকালীন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে কী ভাবে সহমত হলেন মুখ্যমন্ত্রী, এদিন  চিঠিতে এই প্রশ্নই তোলেন সুজন চক্রবর্তী। তিনি লিখেছেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার বলছে, রাজ্য  জিএসটি কাউন্সিলগুলির সঙ্গে কথা বলে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আপনার অনুমোদন ছাড়া, আপনার অর্থমন্ত্রী কী ভাবে এই নির্মম সিদ্ধান্তের অংশীদার হলেন?’

সুজনবাবুর দাবি,  ‘এই ১৮ শতাংশের মধ্যে রাজ্যের প্রাপ্য ৯ শতাংশ। রাজ্য সরকার দ্রুত ঘোষণা করুক, এই ৯ শতাংশ তারা ছেড়ে দেবে। একইসঙ্গে বাকি ৯ শতাংশের বোঝা চাপানোর বিরুদ্ধে দিল্লির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। কেন্দ্রের উপর চাপ সৃষ্টি করুন। গণবন্টন ব্যবস্থার মাধ্যমে সাবান, মাস্ক এবং স্যানিটাইজার সরবরাহ করার উদ্যোগ সরকারকে নিতে হবে।’

কেন্দ্রীয় সরকার বর্তমান পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে অর্থ উপার্জন করছে বলেও চিঠিতে তোপ দাগেন সিপিএমের বরিষ্ঠ নেতা। চিঠিতে তিনি লেখেন, ‘কোভিড সংক্রমণের বিপদকে কেন্দ্রীয় সরকার অর্থ উপার্জনের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছে। কেন্দ্রীয় সরকার লুঠ করতে চাইছে। এ নিয়ে রাজ্য সরকারের দৃঢ় অবস্থান নেওয়া উচিত। না হলে এই কোভিড মহামারীর বিরুদ্ধে মানুষের যে সার্বিক লড়াই তা দুর্বল হবে।’

প্রসঙ্গত, করোনা প্রতিরোধে অত্যাবশ্যকীয় ব্যবহারকারী পণ্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে স্যানিটাইজার। তারপরেও আপৎকালীন মুহূর্তে স্যানিটাইজার এর ওপর জিএসটি ঘোষনার প্রতিবাদে দেশজুড়ে শুরু হয়ে যায় বিক্ষোভ। এরপর এই কেন্দ্রের তরফে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে বলা হয়, সাবান, অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল লিক্যুইডের ওপর ১৮ শতাংশ জিএসটি রয়েছে। একই ধরনের জীবাণুনাশক হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ওপর তাই ১৮ শতাংশ জিএসটি ধার্য হয়েছে। কেন্দ্রের ওই ব্যাখ্যায় আরও জানানো হয়, শুধু কেন্দ্রীয় সরকার নয়, জিএসটি কাউন্সিলে রাজ্য সরকারগুলিও জিএসটি-র রেটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। জিএসটি রেট কমানো হলে আমদানি করা পণ্য বাজারে বেশি সুবিধা পেয়ে যাবে যা কেন্দ্রীয় সরকারের আত্মনির্ভর ভারতের নীতির বিরোধী। আমজনতারও কিছু লাভ হবে না। কারণ দেশীয় সংস্থাগুলির সমস্যা হওয়ায় আখেরে স্যানিটাইজারের দাম কমবে না।