আমি কোথায় কখন বোম ব্লাস্ট করব সেটা সময় হলে জানতে পারবেন’, বিক্ষুব্ধ নেতাদের নিয়ে বৈঠকের পর শান্তনু ঠাকুর

26

মহানগর ডেস্ক: জল্পনা যেন ক্রমাগতই ঊর্ধ্বমুখী। শনিবার কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের গেস্ট হাউসে বিক্ষুব্ধ নেতাদের নিয়ে বৈঠক করলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর। সেই বৈঠক থেকেই বেরিয়ে জয়প্রকাশ মজুমদারকে পাশে নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন তিনি। এদিন তিনি জানিয়েছেন, আমাদের একটাই উদ্দেশ্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও বিজেপির হাতকে মজবুত করা। কিন্তু বর্তমানে বঙ্গ বিজেপিতে কমিটি তৈরি হয়েছে তা দেখে আমার মনে হয়না, এই কমিটি বিজেপিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কোনও সৎ উদ্দেশ্য আছে। উপরের নেতাদের ভুল বার্তা দিয়ে কমিটি তৈরি হয়েছে। এতে আমরা বিজেপির জন্য অশনিসংকেত দেখছি। আমরা এর মোকাবিলা করব। কোনও এক বিশেষ ব্যক্তি সংগঠনকে নিজের কুক্ষিগত করতে এভাবে বরিষ্ঠ অভিজ্ঞ নেতাদের সরিয়ে কমিটি তৈরি করেছে।

পাশাপাশি তিনি আরও জানিয়েছেন, তাই কারোর কথা না চিন্তা করে বিজেপিতে থাকা ৯০ শতাংশ মানুষকে বাদ দিয়ে কমিটি তৈরি হয়েছে। এটা বিজেপির জন্য ক্ষতিকর নয়? বিজেপি হতেই আমরা একত্রিত হয়েছি। এরা যাতে কোনভাবেই দলের ক্ষতি না করতে পারে আমরা ওদের সব পরিকল্পনা বানচাল করব। প্রসঙ্গত বলে রাখা ভাল, ইতিমধ্যেই বঙ্গ বিজেপি-র অন্দরমহলে জ্বলতে শুরু করে দিয়েছে আগুন। এবং সেই আগুন জ্বলা শুরু হয়েছে রাজ্য ও জেলা কমিটি থেকে যখন একের পর এক বর্ষিয়ান এবং প্রবীণ নেতাদের বার করে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে মতুয়া সম্প্রদায় জায়গা পায়নি এই কমিটিতে। তখনই রাগে ক্ষোভে ফেটে পড়ে দলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ত্যাগ করে একের পর এক নেতাকর্মীরা। তার মধ্যে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর একজন।

এদিন শান্তনু ঠাকুর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানিয়েছেন, মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষকে যখন রাখা হয়নি, এসটি, ওবিসিদের অবহেলা করা হয়েছে। পাশাপাশি আজ বিজেপিকে যারা ২ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশই নিয়ে গেল তাদের কেন হঠাৎ মুছে দেওয়া হল। এই কারণ আমি জানতে চাই। আমার মনে হয় না এই কারণগুলো ঊর্ধ্বতন নেতৃত্তের মাথায় আছে। কারণ উত্তরপ্রদেশে ভোট রয়েছে সে কারণে আমি আর উচ্চবাচ্য করিনি। কিন্তু এটা জানা দরকার। শুধু রাজ্য কমিটি নয় জেলা ব্লক বুথ কমিটি সব জায়গায় থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও তিনি জানান, সংগঠনের একজন নেতা আপনাদের নাম বলতে হয়না। জানেনতো সংগঠনের দায়িত্বে আছেন। নাম বলে তাকে আমি হাইলাইট করতে চাই না। তবে তার একার জন্য পুরো বিজেপি ধ্বংস হয়ে যাবে কখনো হতে দেব না। অবশ্যই আমরা ঐ ব্যক্তির অপসারণ চাই। ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বকে জানিয়েছে। আগামী দিনের জোর দিয়ে বলব। সকলে চাই দলকে আরও মজবুত করতে। আমি কখন কোথায় বোম ব্লাস্ট করব সেটা সময় হলেই সকলে জানতে পারবেন। তবে এর মানে কখনোই এই নয় যে পার্টি ছেড়ে দিতে হবে।