শিলিগুড়ি: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার একটি তীক্ষ্ণ মন্তব্য (Abhishek Tax)। তিনি অভিযোগ করেছেন, বাংলা থেকে অসমে ঢোকা ট্রাক চালকরা প্রায়ই
Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.
শিলিগুড়ি: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার একটি তীক্ষ্ণ মন্তব্য (Abhishek Tax)। তিনি অভিযোগ করেছেন, বাংলা থেকে অসমে ঢোকা ট্রাক চালকরা প্রায়ই শিলিগুড়ির কাছে ‘অভিষেক ট্যাক্স’ নামে একটি অবৈধ টোল দিতে বাধ্য হন। এই ট্যাক্স শুধু কয়লা বোঝাই ট্রাক নয়, এখন প্রায় সব ধরনের ট্রাক থেকেই আদায় করা হয় বলে তিনি দাবি করেছেন।
হিমন্তের এই কথায় তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ‘চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট রাজ’-এর অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে।সম্প্রতি শিলিগুড়িতে এক জনসভায় এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, “বাংলা থেকে অসমে যাওয়া ট্রাক চালকরা প্রায়ই অভিযোগ করেন যে, শিলিগুড়ির কাছে তাদের ‘অভিষেক ট্যাক্স’ দিতে হয়। আগে শুধু কয়লার ট্রাক থেকে এই টাকা নেওয়া হত, এখন প্রায় সব ট্রাকেই লাগে।
যাতায়াতের পথে দু’বার এই ট্যাক্স দিতে হয়।” তিনি আরও বলেন, বিজেপি যদি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসে, তাহলে এই ‘অভিষেক ট্যাক্স’ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হবে। এই মন্তব্য সরাসরি তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে টার্গেট করে করা হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।ট্রাক চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, শিলিগুড়ি করিডোর দিয়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে যাওয়ার সময় অনেক সময় অজানা লোকজন বা স্থানীয় গ্রুপের লোকেরা ট্রাক আটকে টাকা দাবি করে।
চালকরা বলছেন, “না দিলে ট্রাক আটকে রাখা হয়, মাল খালাস করতে বাধা দেওয়া হয়। অনেক সময় হুমকি-ধমকিও দেওয়া হয়।” এই ঘটনা শুধু অসমগামী ট্রাক নয়, অন্যান্য রাজ্যের চালকদেরও ভোগান্তিতে ফেলছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই অবৈধ ট্যাক্সের কারণে পণ্যের পরিবহন খরচ বেড়ে যাচ্ছে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের উপর পড়ছে।হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এই অভিযোগকে তুলে ধরে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান সরকারের উপর চাপ বাড়িয়েছেন।
তিনি বলেছেন, “একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার বলে বাংলায় শান্তি আছে, অন্যদিকে রাস্তায় ট্রাক চালকদের কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায় চলছে। এটাই তৃণমূলের ‘উন্নয়ন’ মডেল।” অসমে বিজেপি সরকারের আমলে এ ধরনের চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এখনও এই অভিযোগের সরাসরি জবাব দেওয়া হয়নি।
দলের কয়েকজন নেতা বলছেন, দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের আগে মানুষকে প্রভাবিত করার চেষ্টা এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। তবে বিরোধী দল বিজেপি এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছে। বিজেপি নেতারা বলছেন, শিলিগুড়ি সহ উত্তরবঙ্গে সিন্ডিকেট রাজ চলছে এবং এর পেছনে রাজনৈতিক মদত রয়েছে।
আমরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে খবর পরিবেশন করি। আপনার ছোট সহযোগিতাও আমাদের এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।
Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.