গরমে জলাভাবে শুকিয়ে মরছে পাকিস্তান! কড়া অবস্থানে অনড় মোদী সরকার

নয়াদিল্লি: গ্রীষ্মকাল চলছে, এর মধ্যেই ব্যাপক জলকষ্টে ভুগছে পাকিস্তান। (Pakistan water crisis)এই ইস্যুতে পাকিস্তান রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে (ইউএনএসসি) ভারতের বিরুদ্ধে জোরালো আবেদন জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছে। ১৯৬০ সালের …

নয়াদিল্লি: গ্রীষ্মকাল চলছে, এর মধ্যেই ব্যাপক জলকষ্টে ভুগছে পাকিস্তান। (Pakistan water crisis)এই ইস্যুতে পাকিস্তান রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে (ইউএনএসসি) ভারতের বিরুদ্ধে জোরালো আবেদন জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছে। ১৯৬০ সালের সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি ভারত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার ইউএনএসসি প্রেসিডেন্টের কাছে চিঠি দিয়ে “গুরুতর মানবিক ও নিরাপত্তা সংকট” তুলে ধরেছেন।

 

 

কিন্তু ভারতের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট, পাকিস্তান যতক্ষণ না সীমান্তবর্তী সন্ত্রাসবাদকে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে, ততক্ষণ চুক্তি পুনর্বহাল করা হবে না।২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে কাশ্মীরের পহেলগাওয়া জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিরীহ পর্যটক নিহত হওয়ার পরদিনই কেন্দ্রীয় সুরক্ষা মন্ত্রিসভা (সিসিএস) বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সময় মোদী মন্তব্য করেছিলেন , “রক্ত ও জল একসঙ্গে বইতে পারে না।”

পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের জন্য এই চুক্তিকে ‘অ্যাবেয়েন্স’-এ রাখা হয়েছে। ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি হরিশ পার্বতানেনি ইউএনএসসিতে স্পষ্ট করে বলেছেন, পাকিস্তান যতক্ষণ না বিশ্বাসযোগ্য ও অপরিবর্তনীয়ভাবে সন্ত্রাসবাদের সমর্থন ত্যাগ করে, ততক্ষণ চুক্তি স্থগিত থাকবে।পাকিস্তানের জন্য এই সিদ্ধান্ত যে কতটা গুরুতর, তা সহজেই অনুমান করা যায়। পাকিস্তানের কৃষিজমির প্রায় ৮০ শতাংশ সিন্ধু নদী ও তার উপনদীগুলোর জলের উপর নির্ভরশীল।

গ্রীষ্মকালে জলের চাহিদা চরমে ওঠে। পাকিস্তানের কৃষকরা এখনই উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। পাক বিদ্যুৎমন্ত্রী এই সিদ্ধান্তকে “জলযুদ্ধ” বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি হলো যে দেশ সন্ত্রাসবাদকে পৃষ্ঠপোষকতা করে, তাকে আর বিনামূল্যে জলের লাইফলাইন দেওয়া যায় না।এদিকে ভারত নিজের জলসম্পদ সুরক্ষিত করতে বড়সড় পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। সরকার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি মেগা ক্যানাল এবং ১২টি বড় টানেল নির্মাণের কাজ শুরু করেছে।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে ইন্দুস নদীর অতিরিক্ত জল হরিকে ব্যারেজের পাশাপাশি টানেলের মাধ্যমে ইন্দিরা গান্ধী ক্যানাল, গঙ্গা ক্যানাল এবং শেষ পর্যন্ত যমুনা নদীতে নিয়ে যাওয়া হবে। এতে রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা সহ উত্তর ভারতের শুষ্ক অঞ্চলগুলোতে সেচ ও পানীয় জলের সংকট অনেকাংশে মিটবে। প্রকল্পটি শুধু জল সংরক্ষণ নয়, ভবিষ্যতের জলনিরাপত্তারও একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ।

saikhasgar3138@gmail.com