মালদা: ফের সীমান্তে চাঞ্চল্য। অনুপ্রবেশ ইস্যুতে ফের সরগরম ভোট বঙ্গ। (Malda BSF)বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম পর্বের ভোটগ্রহণের রাতে এবং পরদিন ভোরে সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) মালদা জেলায় তিন বাংলাদেশী নাগরিককে …
মালদা: ফের সীমান্তে চাঞ্চল্য। অনুপ্রবেশ ইস্যুতে ফের সরগরম ভোট বঙ্গ। (Malda BSF)বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম পর্বের ভোটগ্রহণের রাতে এবং পরদিন ভোরে সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) মালদা জেলায় তিন বাংলাদেশী নাগরিককে আটক করেছে। আটক হওয়া ব্যাক্তিদের নাম মামুন শেখ, রিপন রায় এবং তারেকুল ইসলাম। তাদের মধ্যে একজন কুমারপুরের বাসিন্দা এবং অন্য দু’জন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গিয়েছে, তারা গত ৫-৬ মাস ধরে দক্ষিণ ভারতের চেন্নাইয়ে কাজ করছিলেন।
ভারতে অবৈধভাবে প্রবেশ করেছিলেন মুর্শিদাবাদের লালগোলা সীমান্ত দিয়ে এজেন্টদের সাহায্যে। এখন নির্বাচনের সময় দেশে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।ঘটনাটি ঘটেছে হাবিবপুর থানার অধীন বৈদ্যপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। বিএসএফের ৮৮ ব্যাটেলিয়নের জওয়ানরা বৃহস্পতিবার রাতে একজনকে এবং শুক্রবার ভোরে আরও দু’জনকে সীমান্তের কাঁটাতারের কাছে আটক করে।
নির্বাচনের কারণে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল। সেই কড়া পাহারার মধ্যেই তারা বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। বিএসএফ সূত্র জানিয়েছে, আটককৃতরা কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই ভারতে প্রবেশ করেছিলেন।জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছেন, মুর্শিদাবাদের লালগোলা সীমান্ত দিয়ে এজেন্টদের সাহায্যে ভারতে ঢোকেন। সেখান থেকে দক্ষিণ ভারতে চলে যান এবং চেন্নাইয়ে বিভিন্ন কাজে যুক্ত ছিলেন।
কয়েক মাস কাজ করে টাকা জমিয়ে দেশে ফিরছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের কড়া নজরদারির কারণে সীমান্ত পার হতে গিয়ে ধরা পড়েন। আটককৃতদের হাবিবপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ আরও তদন্ত চালাচ্ছে। এজেন্টদের চক্র এবং তাদের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্যদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।এই ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
মালদা ও মুর্শিদাবাদ সীমান্ত দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগ উঠছে। অনেকে কাজের সন্ধানে ভারতে আসেন, আবার কেউ কেউ অন্য উদ্দেশ্য নিয়েও আসেন বলে সন্দেহ করা হয়। নির্বাচনের সময় সীমান্তে অতিরিক্ত সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও এমন ঘটনা ঘটায় স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর দিকে আঙুল উঠছে। বিএসএফ জানিয়েছে, নির্বাচনের সময় সীমান্তে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।
তবু কিছু লোক চেষ্টা করে যাচ্ছে।স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সীমান্ত এলাকায় এজেন্টদের সক্রিয়তা অনেক দিনের। তারা টাকার বিনিময়ে লোকজনকে ভারতে ঢোকায় এবং ফেরত পাঠায়। অনেক সময় এই চক্রের সঙ্গে স্থানীয় কিছু লোকও জড়িত থাকতে পারে। আটককৃত তিনজনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে, তারা শুধুমাত্র রোজগারের জন্য এসেছিলেন। কিন্তু অবৈধ পথে প্রবেশ করা আইনবিরোধী। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে বিদেশি আইন ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।