মহানগর ডেস্ক: আজ দেবীপক্ষের শেষ। সাধারণত নবমীর রাত রেখেই দুর্গা পুজো শেষের বিদায় ঘন্টা বেজে যায়। আজ বিজয়া দশমী। রীতি মেনে চারদিন মর্ত্যে থেকে বিদায় নিলেন উমা। আবারও ১ বছর স্বামী মহাদেবের কাছে থেকে আগামী বছর ৪ দিনের জন্যে মর্ত্যে আসবেন দেবী দুর্গা। যাই হোক, এই চারদিন কত মজা কত আনন্দ সবই আজ দশমীতে এসে থামল। যদিও এবার কলকাতার পুজো ১০ দিন ধরে চলেছে। মহালয়া থেকেই পুজো শুরু হয়েছে। কলকাতার পুজোর মণ্ডপে মণ্ডপে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সবটাই আজ শেষ। বিষাদে জড়ানো দশমী হলেও আজ বাংলার প্রতিটি প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে চলেছে উদযাপন।
সকালে দেবী বরণ থেকে শুরু করে বেলায় বিভিন্ন পুজো মণ্ডপে সিঁদুর খেলা, বিকেল গড়াতেই চলছে মায়ের বিসর্জন পর্ব। এদিকে সকাল থেকেই আকাশের মুখ ভার। আংশিক মেঘলা আকাশ। আর সেই বৃষ্টির জলেই মিশছে চোখের জল, ঢাকের বোল, তবুও বাঙালি চেঁচিয়ে বলছে ‘আসছে বছর আবার হবে’। প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে থালা হাতে বাড়ির মেয়ে বউরা দেবী বরণে লেগে পড়েছে, মিষ্টি, টাকা, সিঁদুরের পাত্র। যেমন পাড়ায় পাড়ায় সিঁদুরখেলা চলেছে, তেমনই চলেছে বিভিন্ন ঘাটে ঘাটে শুরু হয়েছে প্রতিমা নিরঞ্জনও। তবে এবার প্রতিটি ঘাটে ঘাটে কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছিল দুর্গা নিরঞ্জনের সময়। উত্তর কলকাতা থেকে দক্ষিণ কলকাতা, প্রতিমা নিরঞ্জনের প্রাণকেন্দ্র এই বাবুঘাট। সেখানেও কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে গঙ্গারঘাট।
যখনই প্রতিমা জলে ফেলা হচ্ছে, সঙ্গে সঙ্গে নজরদারির বিশেষ দল প্রতিমার কাঠামো তুলে নিচ্ছে। এদিকে এদিন হাজরা পার্ক সর্বজনীনে দেবীবরণ করলেন তৃণমূলের যুব সভানেত্রী সায়নী ঘোষ লাল শাড়ি, লাল ব্লাউজ, কপালে বড় লাল টিপ পরে মণ্ডপে এসে সিঁদুর, পানে বরণ করেন দেবীকে। খেললেন সিঁদুরও।
সায়নী বলেন, “হাজরা পার্কে এসে মাকে বরণের সুযোগ পেয়ে আমি খুবই খুশি। সকলকে বিজয়ার শুভেচ্ছা। বাংলার মানুষ ভাল থাকুক। মায়ের আশীর্বাদ সকলের মাথার উপর থাকুক। মা বারবার আসুক। বাংলার মেয়ে, ঘরের মেয়ে উমা আসবে, উমা বিরাজ করবে।”