মহানগর ডেস্ক: তিনি ইঁদুরের লেজে সুতো দিয়ে পাথর বেঁধে নালায় চুবিয়ে মেরেছিলেন। ইঁদুর যতই তুচ্ছ হোক, তাকে ওরকম নৃশংসভাবে নালায় চুবিয়ে মারাটা মস্ত অপরাধ বলে মনে হয়েছিল এক জীব প্রেমিকের কাছে। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের বাদাউনে। সেই পশুপ্রেমিক বিকেন্দ্র শর্মা মনোজকুমার নামে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুলিশে ঠুকে দিয়েছিলেন অভিযোগ (Lodged A Case Against For Rat Killing)।
অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নামে পুলিশ। তারা তদন্ত করে ফরেনসিক দলকে দিয়ে খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ করে তার ভিত্তিতে তিরিশ পাতার চার্জশিট পেশ করে। তদন্তের সময় প্রতিটি পরিস্থিতি পুংখানুপুঙ্ক্ষ খতিয়ে দেখে পুলিশ চার্জশিট পেশ করেছে। বিভিন্ন বিভাগ, মিডিয়া ও তথ্য সংগ্রহ করে পুরো কাজটি করা হয়েছে বলে তারা জানিয়েছে তারা।
পুলিশ সূত্রের খবর, চার্জশিট জোরালো করতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্টে (Post Mortem) জানানো হয়েছে ইঁদুরটির ফুসফুস ও লিভারে সংক্রমণ ঘটেছিল এবং ফুসফুস সংক্রমণের কারণে অক্সিজেনের অভাবে তার মৃত্যু হয়। গত বছরের নভেম্বরের পঁচিশ তারিখে পশুপ্রেমিক ভিকেন্দ্র শর্মা থানায় অভিযোগ জানান মনোজকুমার নামে ওই ব্যক্তি অভিযুক্ত মনোজকুমার ইঁদুরটির লেজে পাথর বেঁধে সেটিকে নর্দমায় ছুড়ে মারেন। তিনি ইঁদুরটি বাঁচানোর জন্য নালায় নামলেও তাকে বাঁচানো যায়নি।
সিনিয়র অ্যাডভোকেট রাজীবকুমার শর্মা জানান পশুদের ওপর নির্মমতা বিরোধী আইনে দশ থেকে দু হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করার নিয়ম রয়েছে। এবং তিন বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এবং ৪২৯ নম্বর ধারায় পাঁচ বছরের জেল ও জরিমানা হতে পারে। যদিও মনোজকুমারের বাবা জানান কাক ও ইঁদুর মারায় কোনও ভুল নেই। ওরা ক্ষতিকর প্রাণী। ইঁদুরেরা বাসনপত্র নষ্ট করেছে। কাপড় জামা সেগুলি কুটোকুটি করে নষ্ট করে ফেলেছে। তাঁর দাবি যদি ছেলেকে শাস্তি দেওয়া হয়, তাহলে যারা পাঁঠা,মুর্গি ও মাছ কাটে, তাদেরও যেন শাস্তি দেওয়া হয়। যারা ইঁদুর মারার বিষ বিক্রি করে, সাজা দেওয়া উচিত তাদেরও।
ওই ইঁদুরের মৃত্যুর পর তার দেহ বাদাউনের পশু হাসপাতালে অটোপ্সির জন্য পাঠানো হয়। যদিও সেখানকার চিকিৎসকরা অটোপ্সি করতে অস্বীকার করেন। পরে বরেলিতে ইন্ডিয়ান ভেটেনেরারি হাসপাতালে পাঠানো হয়। অভিযুক্ত মনোজকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় ডাকা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়। ফরেনসিক পরীক্ষায় জানা যায় ইঁদুরটির ফুসফুস গলে গিয়েছিল ও ফুসফুসে সংক্রমণের ফলে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানান আইভিআরআইয়ের জয়েন্ট ডিরেক্টর কেপি সিং।